মানুষ তো সেদিন শিখেছে, পিঁপড়েরা ৬ কোটি বছর আগেই জানত কৃষিকাজ
কৃষিকাজ করে জমিতে ফসল উৎপাদন করে তা খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করেছে মানুষ। কিন্তু তাদের অনেক আগেই এ কাজে পটু ছিল পিঁপড়েরা।
মানুষ তখনও পৃথিবীর আলো দেখেনি। ৬ কোটি বছর আগে পিঁপড়েদের কিছু প্রকার ছিল যারা সে সময় থেকেই জানত কীভাবে নিজেদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে হয়।
মানুষ ১২ হাজার বছর আগে কৃষিকাজ শিখেছে। দৈনন্দিন খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য তা ব্যবহার করেছে। কিন্তু পিঁপড়েরা তা অনেক আগেই শিখেছে।
দক্ষিণ আমেরিকায় যে ঘন জঙ্গলগুলি রয়েছে সেখানে ৬ কোটি বছর ধরে পিঁপড়েদের কয়েকটি প্রজাতি কৃষিকাজ চালিয়ে আসছে তাদের নিজেদের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য।
পিঁপড়ে মানেই যে কৃষিকাজ জানে তা নয়। তবে কয়েকটি প্রজাতির পিঁপড়ে জানে। তারা মাটির তলায় গাছের পাতার অংশ, অন্য জীবের অংশ দিয়ে একটি এমন পরিবেশ তৈরি করে যেখানে প্রচুর ছত্রাক তৈরি হয়। সে ছত্রাকে কখনও পোকা লাগেনা।
পিঁপড়েরা প্রয়োজন বোধ করলে ছত্রাকের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। সেজন্য বাগানও বাড়ায়। আরও বেশি জায়গা জুড়ে তারা এই ছত্রাক চাষ করে।
চাষের জায়গা বাড়লে ছত্রাকও বেশি জন্মায়। আর তা পিঁপড়েদের খাবারের প্রয়োজন পূরণ করতে থাকে। অর্থাৎ নিজেদের খাবার এই পিঁপড়েরা নিজেরাই চাষ করে তৈরি করে নেয়।
ছত্রাক আবার বন্যও হয়। কিন্তু পিঁপড়েরা যে ছত্রাক তৈরি করে তার সঙ্গে বন্য ছত্রাকের সম্পর্ক তৈরি হয়না। ফলে পিঁপড়েদের চাষ করা ছত্রাক সম্পূর্ণ আলাদা হয়। যার ওপর পিঁপড়েরা অনেকটাই নির্ভরশীল হয়।
রানি পিঁপড়ের কন্যা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের একটি আলাদা কলোনি তৈরি করে তখন সে তার মায়ের কলোনি থেকে একটুকরো ছত্রাক বাগান সঙ্গে নিয়ে যায়। যাতে সে তার নতুন কলোনিতে নতুন সংসারে এই ছত্রাক তৈরি করতে পারে। যা তার কলোনির খাবারের চাহিদা পূরণ করবে।











