SciTech

মোটে কয়েক মিলিমিটারে আস্ত ফুলগাছ কীভাবে সম্ভব, রহস্যভেদ বিজ্ঞানীদের

মাত্র কয়েক মিলিমিটারের সম্পূর্ণ একটি ফুলগাছ। কীভাবে এত ছোট পরিসরে এই ফুলগাছটি নিজস্ব গঠন ধরে রেখেছে সেই রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা।

পুকুরের জলে ভেসে থাকা ছোট্ট সবুজ বিন্দুগুলিকে অনেকেই শ্যাওলা বলে ভুল করেন। অথচ সেই বিন্দুগুলির কোনও কোনওটি আসলে পূর্ণাঙ্গ ফুলগাছ। নাম ডাকউইড। ডাকউইড খুবই ক্ষুদ্র। কিছু প্রজাতির দৈর্ঘ্য মোটে কয়েক মিলিমিটার।

কিন্তু একটি আস্ত ফুলগাছ কীভাবে এত সামান্য জায়গার ভিতর নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ব্রিটেনের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, আকারে ক্ষুদ্র হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ডাকউইড তার পূর্বজদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক গঠন হারিয়ে ফেলেছে। বরং বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এই গাছটি বেছে নিয়েছে এক অভিনব কৌশল।

বড় উদ্ভিদের যে মৌলিক গঠনগুলি পৃথক পৃথক জায়গার দখল নেয়, এর অনেকটাই ডাকউইড অত্যন্ত ছোট পরিসরে গুটিয়ে নিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে গঠন আবার পরস্পরের সঙ্গে একীভূত হয়ে কাজ করছে। অর্থাৎ, ছোট হতে গিয়ে সর্বাঙ্গ পুরো বাদ দেওয়ার বদলে ডাকউইড তার বিন্যাস বদলেছে।

ফলে কয়েক মিলিমিটারের ভিতর তারা প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে নিতে পারার ব্যবস্থা তৈরি করেছে। গবেষণাটি উদ্ভিদের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিজ্ঞানীদের। ক্ষুদ্র উদ্ভিদ মানেই তার মৌলিক গঠন হারিয়েছে অধিকাংশ সময়ে, এমন ধারনার সঙ্গে এই আবিষ্কার খাপ খাচ্ছে না।

বরং দেখা যাচ্ছে প্রকৃতি একই গঠনকে অবিশ্বাস্য ভাবে ছোট জায়গার মধ্যে ধরে রাখতে পারে। এবিষয়ের গুরুত্ব শুধু কৌতূহলেই সীমাবদ্ধ নয়। দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জলজ উদ্ভিদ হিসেবে ডাকউইড ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন সংক্রান্ত গবেষণায় আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সীমিত জায়গা এবং সম্পদ ব্যবহার করে উদ্ভিদ কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তা বোঝা মহাকাশে চাষাবাদের ভাবনার ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। কারেন্ট বায়োলজি পত্রিকায় প্রকাশিত এই গবেষণা এ সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। ডাকউইড নামে কয়েক মিলিমিটারের একটি ফুলগাছের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সত্যিই বিস্ময়কর শিক্ষা লাভ করেছেন।

Show Full Article