World

সূর্যালোকে ফুটে ওঠে অদ্ভুত সংকেত, গির্জায় লুকিয়ে আছে কোনও বার্তা, উত্তরের খোঁজ চলছে

গির্জাটির বয়স ১৬০ বছর। সেখানেই একটি অংশে সূর্যের আলো পড়লে একটি সংকেত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এ কি কোনও গোপন বার্তা, উত্তর খোঁজার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

বাইরে থেকে দেখলে ঐতিহাসিক গির্জাটিকে বাকি আর পাঁচটা গির্জার মত সাধারণ বলেই মনে হবে। তবে গির্জার ভিতর পদার্পণ করলে চোখে পড়বে এমন এক গোলকধাঁধা যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য।

গির্জার বেদির কাছে মেঝেতে বাদামি এবং সবুজ টালি দিয়ে তৈরি প্রায় ৫ মিটারের একটি বৃত্তাকার নকশা।‌ সেটি বহুদিন কাঠের বেদির আড়ালে থাকায় প্রায় বিস্মৃত ছিল। বেদিটি সরানোর পর নকশাটি ফের সামনে আসে।

প্রায় ১৬০ বছরের গির্জা এটি। নাম সেন্ট মেরিজ চার্চ। অবস্থিত ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের ছোট্ট গ্রাম ইচেন স্টোকে। ফ্রান্সের শার্ত্র ক্যাথিড্রালের বিখ্যাত নকশার আদলে তৈরি এই গির্জার নকশাটি।

গোলকধাঁধা থাকলেও তাতে একদিক ওদিক যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আঁকাবাঁকা একটি পথ পৌঁছে দেবে মধ্যবর্তী স্থানে। রহস্য আরও ঘনীভূত হয় সূর্যালোক পড়লে।

গির্জার রঙিন কাচের জানালা দিয়ে আলো প্রবেশ করলে নানা রঙের ছায়া ঘোরে মেঝের উপর। একদিন সকালে সেই আলোয় তিরের মত একটি আকৃতি দেখা যায়। তার ফলা ছিল নকশাটির কেন্দ্রাভিমুখে।

এটি কি নিছকই আলোর খেলা, নাকি স্থপতি ইচ্ছা করে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এমন দৃশ্য সৃষ্টির ব্যবস্থা করেছিলেন? এই প্রশ্নের নিশ্চিত কোনও উত্তর এখনও মেলেনি। উত্তর পেতে গির্জার দেখভালের দায়িত্বে থাকা চার্চেস কনজারভেশন ট্রাস্ট সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে।

‘ক্যাচিং দ্যা লাইট’ প্রকল্পে দর্শনার্থীদের বলা হয়েছে, নানান দিনের বিভিন্ন সময়ে আলো কোথায় এসে পড়ছে এই সংক্রান্ত ছবি তুলে সময়সূচি নথিভুক্ত করে জানাতে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হবে আলোর বিন্যাসে সত্যিই কোনও নিয়ম আছে কিনা।

প্রার্থনার প্রতীক হিসাবে গোলকধাঁধার পরিচিতি থাকলেও আলো এবং নকশার সম্পর্ক জনিত ব্যাখ্যা এখনও অধরা। গির্জার ১৬০ বছরের পুরনো মেঝেয় তবে কি লুকিয়ে আরও অজানা বার্তা, জাগছে কৌতূহল।

Show Full Article