মহাকাশে অগুন্তি অন্ধকার জগতে রয়েছে জল ভরা মেঘ, আর কি খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
মহাকাশে অগুন্তি এমন অন্ধকার জগত রয়েছে যেখানে মেঘের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই মেঘে রয়েছে জল এবং আরও ৩টি চেনা গ্যাস।
মহাকাশের অন্ধকারে লুকিয়ে হাজার হাজার অদ্ভুত জগত। তাদের মেঘের আড়ালে আশ্চর্য ৩ খোঁজ পেল নাসা। মহাকাশের অসীম অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা হাজার হাজার অদ্ভুত জগতের কোনওটিই পুরোপুরি নক্ষত্র নয়, আবার সাধারণ গ্রহও নয়। অথচ তাদের রয়েছে নিজস্ব বায়ুমণ্ডল। রয়েছে মেঘ। এমনকি সেই বায়ুমণ্ডলে জলের উপস্থিতিও রয়েছে। এবার সেই রহস্যময় জগতগুলি সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য সামনে আনল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
নাসার দূরবীন পর্যবেক্ষণ করছে ব্রাউন ডোয়ার্ফ নামে পরিচিত এই মহাজাগতিক বস্তুগুলিকে। এগুলি নক্ষত্রের মতই গ্যাসের মেঘ থেকে তৈরি হয়। কিন্তু ভরের অভাবে সাধারণ নক্ষত্রের মতো দীর্ঘদিন হাইড্রোজেন সংযোজনের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করতে পারেনা। ফলে এদের আলো অত্যন্ত ক্ষীণ।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন ৩৭টি ব্রাউন ডোয়ার্ফের বায়ুমণ্ডল পরীক্ষা করেছেন। তাতেই পাওয়া গিয়েছে জলীয় বাষ্প, মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতির প্রমাণ।
তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় অন্য জায়গায়। গবেষকেরা দেখেছেন, প্রায় একই তাপমাত্রার ২টি ব্রাউন ডোয়ার্ফের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য একেবারে আলাদা হতে পারে।
কোথাও ঘন মেঘের আস্তরণ, কোথাও আবার মেঘ পাতলা হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিথেনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেন এমন পার্থক্য তৈরি হচ্ছে তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে নেই।
বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বিশ্লেষণ করে এই অদ্ভুত জগতগুলির রাসায়নিক পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের মতে এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে দূরবর্তী গ্রহের বায়ুমণ্ডল বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প পাওয়া মানেই সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এমন নয়। মহাকাশের এই অসংখ্য ক্ষীণ আলোর জগতের মেঘের আড়ালে আর কী কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তা জানতেই এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।











