কয়েক শতাব্দীর বদলাতে থাকা বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহন করছে ৩০০০ বছর পুরনো গুহাচিত্র
পাহাড়ের খাঁজে গুহার অন্দরে অনেক সময়ই গুহাচিত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু একটি গুহার গুহাচিত্রের মত বদলাতে থাকা বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহনের নজির পাওয়া ভার।
পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত একটি গুহা। গুহার দেওয়ালে মানুষের মুখ, শিংওয়ালা অবয়ব, আজব ধরনের জ্যামিতিক চিহ্ন। একই সময়কালে আঁকা হয়নি সমস্ত ছবি। কোনও ছবির বয়স কয়েক হাজার বছর, কোনওটি এর অনেক পরের। চিনের উত্তর পশ্চিমে আলতাই পর্বতমালার তাংবালেতাসি গুহাচিত্র ঘিরে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।
চিনের শিনজিয়াং অঞ্চলের এই পাহাড়ে রয়েছে গুহাচিত্রসম্বলিত ২টি এলাকা। গবেষকরা ছবিগুলির রং, অবস্থান এবং একটির উপর অন্য আঁকার চিহ্ন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। ব্যবহার করেছেন হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং নামে বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি। ফলে খালি চোখে প্রায় অদৃশ্য ২টি নকশা সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
কিছু ছবির অবয়ব মানুষের মত। কারও মাথায় শিংয়ের আদলের চিহ্ন, কোথাও আঁকা তিরধনুক। গবেষকদের ধারনা, এই ছবিগুলির একাংশ ব্রোঞ্জ যুগের শিল্পকলার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ ৩ হাজার বছরের বেশি প্রাচীন ঐতিহ্যের চিহ্নবাহী হতে পারে সেগুলি।
রহস্যের শেষ এখানেই নয়। গুহার একটি দেওয়ালে দেখতে পাওয়া গিয়েছে তিব্বতি লিপিতে মন্ত্র এবং বজ্রচিহ্ন। যা তিব্বতি বৌদ্ধমতের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকদের মতে এরও অনেক পর সম্ভবত ইউয়ান রাজবংশের সময় থেকে এই এলাকায় নতুন ধর্মীয় চিহ্ন যুক্ত হতে শুরু করে।
গুহাটির কাছে রয়েছে একটি প্রাচীন সমাধি। যদিও সেই সমাধির সঙ্গে গুহাচিত্রের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক এখনও প্রমাণিত হয়নি। তবে কি পরবর্তী যুগের মানুষ পূর্ববর্তী সময়ের ওই ছবিগুলিকে পবিত্র হিসাবে মনে করতেন? কেন তাঁরা একই গুহায় ফিরেছিলেন? এই প্রশ্নগুলির নিশ্চিত উত্তর মেলেনি এখনও।
সমস্ত গুহাচিত্রের নির্দিষ্ট সময়কাল এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। যদিও গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের পরিবর্তিত বিশ্বাসের নীরব সাক্ষ্য দিচ্ছে পাহাড়ি গুহার দেওয়াল।











