ডানা উপরে তুলেও সামনের দিকে এগিয়ে চলে পাখি, রাতের উড়ান রহস্যে বিস্মিত গবেষকরা
ডানা উপরে তোলার সময়ও সামনের পথে এগোনোর শক্তি তৈরি করে এই পাখি। বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় ধরা পড়ল নিশাচর এই পাখির আশ্চর্য উড়ান রহস্য।
পাখি ওড়ার সময় ডানা ঝাপটায়। ডানা নিচের দিকে নামানোর সময় তৈরি হয় উড়তে থাকার মতো দরকারি শক্তি। ডানা উপরে তোলার সময়ও যদি পাখি সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার শক্তি তৈরি করতে পারে, কেমন হয় তাহলে? এমনই আশ্চর্য ক্ষমতার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা।
ইউরোপীয় নাইটজার নামে এক নিশাচর পাখির উড়ান পরীক্ষা করতে গিয়ে বিশেষ কিছু তথ্য জানা গিয়েছে। ইউরোপিয়ান নাইটজার প্রতিবছর ইউরোপ থেকে আফ্রিকার দক্ষিণাংশে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়। তারা সন্ধ্যায় উড়ন্ত পোকামাকড় শিকারের সময় অত্যন্ত ধীরেও উড়তে পারে। প্রয়োজনে প্রায় একই জায়গায় ভেসে থাকতে পারে।
সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা একটি বিশেষ উইন্ড টানেলে নাইটজারের উড়ান পরীক্ষা করেছেন। তাতে পাখিটির ডানার নড়াচড়া এবং পিছনের বাতাসের প্রবাহ বিশ্লেষণ করে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। দেখা যাচ্ছে, ডানা উপরে তোলার সময়ও পাখিটি ডানার বাইরের অংশ সামনের দিকে এগিয়ে চলার মতো প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করছে।
এতদিন পর্যন্ত এধরনের কৌশল মূলত বাদুড়, কিছু পতঙ্গ এবং হামিংবার্ডের উড়ানের সঙ্গে সাযুজ্যযুক্ত ছিল। গবেষকেরা আরও দেখেছেন যে নাইটজার ডানা উপরে তোলার সময় সেটি খুব বেশি গুটিয়ে নেয় না। ডানার এই বিশেষ নড়াচড়া সামনের দিকে তাকে ঠেলার শক্তি তৈরিতে সহায়তা করে।
বিশেষ এই ক্ষমতার জন্যে খানিক মূল্যও চোকাতে হয় এই পাখিটিকে। ধীরে ওড়ার সুবিধা পাওয়া গেলেও তুলনামূলক দ্রুত উড়ানের সময় ডানার কার্যক্ষমতা কিছুটা কমে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে এই আবিষ্কার শুধু পাখির উড়ান সম্পর্কে প্রচলিত ধারনা বদলাচ্ছে না, ভবিষ্যতে ডানা ঝাপটিয়ে উড়তে সক্ষম নতুন ধরনের রোবট তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।











