সমুদ্রের গভীরে বিচিত্র কৌশলে খাবার ধরে আজব এক প্রাণি, অজানা রহস্যের সুলুকসন্ধান
সমুদ্রের ৬৫০ মিটার গভীরে ছাতা মেলে খাবার ধরে এক আজব প্রাণি। এই কৌশল কীভাবে বদলে দিচ্ছে কার্বনের স্বাভাবিক যাত্রাপথ, জানলেন বিজ্ঞানীরা।
সমুদ্রের গভীরে ছাতা খুলে কেউ কি খাবার ধরতে পারে? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ঠিক এমনই কৌশল ব্যবহার করে এক আশ্চর্য সামুদ্রিক প্রাণি। নাম পেলাগোথুরিয়া নাটাট্রিক্স। তারা একধরনের সি কিউকাম্বার বা সামুদ্রিক শসা ধরে।
তবে পরিচিত সামুদ্রিক শসাদের মতো সেগুলি একেবারে সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকেনা। বরং গভীর জলে ভেসে বেড়ায়। এই আজব প্রাণিটির মুখের চারপাশে রয়েছে পাতলা, স্বচ্ছ পর্দার মতো প্রসারিত অংশ। দেখতে অনেকটা খোলা ছাতা বা চোঙের মতো।
তারা এই পর্দা ওপরের দিকে মেলে ধরে অপেক্ষা করে খাবারের জন্যে। সমুদ্রের ওপরের স্তর থেকে ক্রমাগত নেমে আসে প্রাণহীন প্ল্যাঙ্কটন, ক্ষুদ্র জৈবকণা ও অন্যান্য বর্জ্যের মিশ্রণ। বিজ্ঞানীরা একে বলেন, মেরিন স্নো। সেই কণা পর্দার সাহায্যে জড়ো করে শুঁড়ের মাধ্যমে খেয়ে ফেলে তারা।
আমেরিকার মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম রিসার্চ ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী ব্রুস রবিসন গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের কাছে চালানো ২৩টি ডুবোযান অভিযান বিশ্লেষণ করেছেন। তাতে দেখা গেছে, ২৫০ থেকে ৬৫০ মিটার গভীরতায় এই প্রাণিটির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
এখানেই সবচেয়ে বড় চমক। সমুদ্রপৃষ্ঠের অণুজীব সূর্যালোকের সাহায্যে যে কার্বন জৈব পদার্থে আটকে রাখে, তার একাংশ মেরিন স্নোর সঙ্গে নিচে নামতে থাকে। সাধারণত সেই কার্বনের কিছুটা গভীর সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছয়। অথচ এই ভাসমান সামুদ্রিক শসা মাঝপথেই তা খেয়ে নেয়।
ফলে কার্বনের একাংশ তলদেশে পৌঁছনোর আগেই মাঝসমুদ্রের খাদ্যজালে প্রবেশ করে। গবেষকদের মতে, এমন প্রাণির ভূমিকা বোঝা গেলে সমুদ্র কীভাবে কার্বন পরিবহণ এবং সঞ্চয় করে সেই জটিল হিসেব আরও স্পষ্ট হতে পারে। ছোট্ট একটি প্রাণির খাবার ধরার কৌশলই প্রকাশ করেছে মহাসাগরের এক অজানা রহস্য।











