জঞ্জাল কুড়িয়ে দিন কাটানো বৃদ্ধের ব্যাঙ্কে জমেছে ৬১ লক্ষ টাকা, জানতেনই না তিনি
তাঁর যে জঞ্জাল কুড়িয়ে দিন কাটানোর কথা নয়, তাঁর ব্যাঙ্কে ভালই টাকা জমা রয়েছে, তা তিনি নিজেই জানতেন না। প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে টাকা কিন্তু জমা হয়েছে।
একটি সরকার পরিচালিত দোকানে কাজ করতেন তিনি। ২০০০ সালের পর সেখানে কর্মী সংকোচনের সময় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে একটা টাকা হাতে পেয়েছিলেন। ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণের কথা থাকলেও তার অনেক আগেই কাজ হারিয়ে আতান্তরে পড়েন তিনি।
নতুন কোনও কাজও খুঁজে পাননি। অবশেষে তিনি জঞ্জাল কুড়িয়ে নিজের দিন গুজরান শুরু করেন। জঞ্জাল কুড়িয়ে সেসব জমা করে তার থেকে যে সামান্য অর্থ পেতেন তাই দিয়ে কোনওক্রমে বেঁচে ছিলেন তিনি।
থাকারও কোনও নির্দিষ্ট জায়গা ছিলনা। এমন করে ২১ বছর কাটিয়েছেন তিনি। এরমধ্যে বছর ২ আগে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে রাত কাটানোর সময় তিনি কয়েকজন সমাজ কর্মীর নজরে পড়েন। তাঁরা ওই ৭১ বছরের বৃদ্ধকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। তিনি কি করতেন সেসব জেনে তাঁরাই খোঁজ শুরু করেন ওই ব্যক্তি পেনশন পাওয়ার যোগ্য কিনা।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ওই ব্যক্তি ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণের সময় থেকে তাঁর ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পেনশনের টাকা ঢুকেছে। কিন্তু তিনি সে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কথাও জানতেন না। টাকা ঢোকার কথাও জানতেন না। তাঁর জীবন কাটছিল কাগজ কুড়িয়ে। অবশেষে যখন তাঁকে এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কথা জানানো হয় তখন তিনি আপ্লুত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। চিনের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে এখনও ৪ লক্ষ ২০ হাজার ইউয়ান জমা হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৬১ লক্ষ টাকার মত।
এই টাকা পাওয়ার পর বৃদ্ধের আর কাগজ কুড়িয়ে জীবন কাটানোর দরকার পড়বে না। এই টাকা তো জমা হয়েছে। এছাড়া প্রতি মাসে যেমন পেনশন পড়ছে, তা তো পড়তেই থাকবে।











