ভারতে বাতাস থেকে বিদ্যুৎ তৈরির বিপুল সম্ভাবনা, নতুন সমীক্ষায় চমক
নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এল অবাক করা তথ্য। আগামী দিনে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে খুলে যেতে পারে এক নতুন দিশা।
বাতাস থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। কিন্তু ভারতে সেই বিদ্যুৎ তৈরির সম্ভাবনা যে এতটা বেশি তা আগে ভাবা যায়নি। নতুন একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই চমকপ্রদ তথ্য। সমীক্ষাটি করেছে দ্যা এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইন্সটিটিউট বা টেরি।
সমীক্ষা বলছে, মাটি থেকে ১৫০ মিটার উচ্চতায় বায়ুকল বসানো হলে ভারতের স্থলভাগে প্রায় ১ হাজার ২১০ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের তাত্ত্বিক সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চতা ২০০ মিটার হলে সেই সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯৩৪ গিগাওয়াটে।
শুধু স্থলভাগ নয় সমুদ্রের বুকেও রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। সেখানে বাতাসের নির্দিষ্ট গতি ধরে হিসাব করলে সম্ভাব্য ক্ষমতা প্রায় ২২০ থেকে ২৭৭ গিগাওয়াট।
দেশের মধ্যে রাজস্থান, গুজরাট এবং কর্ণাটকে এই সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ১৫০ মিটার উচ্চতার হিসাবে এই ৩ রাজ্যেই রয়েছে মোট সম্ভাবনার প্রায় ৬১ শতাংশ। মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুকে যুক্ত করলে তা বেড়ে হচ্ছে প্রায় ৭৯ শতাংশ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে স্থাপিত বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ছিল মাত্র ৫৯.২০ গিগাওয়াট। ফলে সম্ভাবনার তুলনায় এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে দেশ।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১ গুণ হতে পারে। সেই চাহিদা মেটাতে বায়ুশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে শুধু সম্ভাবনা থাকলেই হবেনা। প্রয়োজন আধুনিক বায়ুকল, উন্নত পরিকাঠামো এবং বিদ্যুৎ পরিবহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা। পুরনো বায়ুকল বদলে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, আরও উঁচুতে বায়ুকল বসানো, সৌরশক্তির সঙ্গে বায়ুশক্তিকে যুক্ত করা, এমনকি সমুদ্রের বুকেও বায়ুকল বসানোর পথ দেখিয়েছে সমীক্ষা।
আগামী দিনে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাতাস যে অনেক বড় ভূমিকা নিতে পারে তারই ইঙ্গিত মিলল এই নতুন সমীক্ষায়। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা











