পাতা নেই, তবু ফুল ফোটে, অরুণাচলের জঙ্গলে মিলল ভূতফুল
অরুণাচলের গভীর জঙ্গলে এমন এক আশ্চর্য প্রাকৃতিক নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে যা দেখে অবাক হয়েছেন গবেষকেরাও। প্রকৃতির বিস্ময়ের যেন শেষ নেই।
গাছ মানেই তার পাতা থাকবে। সেই পাতার সাহায্যে সূর্যের আলো থেকে খাবার তৈরি করবে গাছ। এমনটাই তো সাধারণভাবে জানা। কিন্তু প্রকৃতির এমন কিছু বিস্ময় রয়েছে যা এই চেনা ধারনাকেই বদলে দেয়। এবার তেমনই এক আশ্চর্য গাছের সন্ধান মিলল অরুণাচল প্রদেশের গভীর জঙ্গলে।
গাছটির কোনও পাতা নেই। এমনকি নেই সবুজ রং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ক্লোরোফিলও। অথচ দিব্যি বেঁচে থাকে সে। সময় হলে ফুটে ওঠে সুন্দর ফুল। বিজ্ঞানীরা এই বিরল অর্কিডের নাম দিয়েছেন গ্যাস্ট্রোডিয়া কেইয়েনসিস।
অরুণাচলের কেই প্যানিয়র জেলার কেই নদীর ধারে দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে গাছটির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার মিটার উচ্চতায় বাঁশঝাড়ের মধ্যে পচা পাতার স্তরে জন্মায় এই অর্কিড।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন মাটির নিচে থাকা বিশেষ ধরনের ছত্রাকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে এই উদ্ভিদ। ফলে সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাবার তৈরির প্রয়োজন পড়ে না তাদের।
গাছটি প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তাতে ফোটে ১ থেকে ৩টি সাদা কিংবা হালকা নীলচে ফুল। ফুলের একটি অংশ আবার উজ্জ্বল হলুদ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় জীবনের অধিকাংশ সময় মাটির নিচেই লুকিয়ে থাকে এই অর্কিড। অল্প সময়ের জন্য ফুল ফুটলেই কেবল তাকে দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয় নিশি ভাষায় এর নাম ওরাম ওপুহ। যার অর্থ ভূতফুল।
গবেষণার সময় মাত্র ৫টি ফুলধরা গাছের দেখা মিলেছে। তবে গোটা অঞ্চলে এমন গাছ আর কত রয়েছে তা এখনও অজানা। এই আবিষ্কারের বিস্তারিত গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান পত্রিকা ফাইটোট্যাক্সায়। অরুণাচলের অরণ্য যে এখনও কত অজানা রহস্য লুকিয়ে রেখেছে এই ভূতফুল যেন তারই আরেক প্রমাণ।











