জমিতে কিছুই ফলত না, সেখানে গাঁদাফুল ফুটিয়ে লক্ষ্মীলাভ কাশ্মীরের গ্রামের মহিলাদের
একটা ছোট উদ্যোগ যে কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারে তা নিজেরাই বুঝতে পারছেন কাশ্মীরের গ্রামের মহিলারা। বদলে যাচ্ছে তাঁদের জীবনও।
একটা সময় যে জমি পড়ে থাকত অনাবাদি হয়ে আজ সেই জমিই হয়ে উঠেছে রোজগারের নতুন ঠিকানা। আর সেই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন গ্রামের কয়েকজন মহিলা। জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলার ভাদেরওয়ার সার্তিঙ্গল গ্রামের মহিলারা এখন ফুল চাষ করে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের আওতায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা শুরু করেছেন বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ। বিশেষ করে গাঁদাফুল চাষ তাঁদের জীবনে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
এই উদ্যোগের অন্যতম মুখ নাদিয়া ফারুক। তাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন মহিলা একখণ্ড অনাবাদি জমিতে গাঁদাফুল চাষ শুরু করেন। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের ফ্লোরিকালচার মিশনের সাহায্যে তাঁরা পান উন্নতমানের চারা। সঙ্গে আধুনিক চাষের প্রশিক্ষণও পান।
মাত্র কয়েক মাস আগে পরীক্ষামূলক ভাবে ৫ জন মহিলা এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছিলেন। তারপরই বদলে যায় ছবিটা। তাঁদের চাষ করা ফুল এখন জম্মুর ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। গত দেড় মাস ধরেই চলছে সেই বিক্রিবাটা।
এই গ্রামের আরও এক মহিলার সাফল্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তাঁর নাম রানি। গত ৮ বছর ধরে গাঁদাফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ছোট ব্যবসা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের রোজগারের পথ তৈরি করেছেন রানি।
রানি জানিয়েছেন, বাজারে ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের গাঁদাফুল বিক্রি করেছেন তিনি। সরকারি দফতর থেকে বীজ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শও পেয়েছেন।
পাহাড়ি এলাকার এই মহিলাদের সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে সঠিক প্রশিক্ষণ আর সুযোগ পেলে অনাবাদি জমিও হয়ে উঠতে পারে আর্থিক স্বনির্ভরতার ভিত্তি। সাধারণ গাঁদাফুলও বদলে দিতে পারে গ্রামের মহিলাদের জীবন। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা











