পৌরাণিক নয়, এবার বাস্তবেই সমুদ্রমন্থন করতে চলেছে ভারত
সমুদ্রমন্থনের কাহিনি সকলের জানা। পৌরাণিক সে কাহিনি মানুষ শুনেছেন, পড়েছেন, দেখেননি। এবার বাস্তবেই সমুদ্রমন্থন প্রত্যক্ষ করবেন দেশবাসী।
পৌরাণিক গাথায় সমুদ্রমন্থনের কাহিনি, সেখান থেকে উঠে আসা অমৃত কুম্ভ, সবই মানুষের জানা। শৈশবে এ দেশের শিশুরা বড়দের মুখে এই সমুদ্রমন্থনের কাহিনি শুনে বড় হয়েছে। এবার বাস্তবেই ভারতে সমুদ্রমন্থন হতে চলেছে। যে প্রকল্পের নামও সমুদ্রমন্থন দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ক্ষেত্রে এক অচলাবস্থার কারণ হয়েছে। ভারত হল জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ।
ফলে এখানে প্রচুর জ্বালানির দরকার। যার জন্য ভারতকে তাকিয়ে থাকতে হয় আমদানির ওপর। সেই আমদানি নির্ভরতা কমাতে চাইছে দেশ। তাই সমুদ্রমন্থন।
সমুদ্রের তলায় খনন চালিয়ে সেখানে তেল পাওয়া গেলে তা তুলে আনতে চাইছে ভারত সরকার। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়ে দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে সমুদ্রের তলদেশে এই তেল ও গ্যাস খোঁজার জন্য খননকার্যে ৮৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়বরাদ্দ করেছে সরকার। যে প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে সমুদ্রমন্থন। অমৃতের জন্য নয়, তেল ও গ্যাসে দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে কার্যত সমুদ্রমন্থনই করতে চলেছে ভারত।
এই প্রকল্প থেকে ভারতীয় সমুদ্রভাগে যদি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারের সত্যিই খোঁজ পাওয়া যায়, তাহলে দেশকে আগামী দিনে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবেনা।
যে কোনও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে শক্তি উৎপাদন ও চাহিদা জরুরি। এই স্বনির্ভরতা তৈরি হলে দেশের জন্য তা সদর্থক ভূমিকা নেবে। প্রসঙ্গত ভারতকে এখন বছরে ১৩ লক্ষ কোটি টাকার তেল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা












