National

ডিসেম্বরের আগেই সমুদ্রসৈকতে বিশেষ প্রস্তুতি, কারণ সামুদ্রিক অতিথিরা

নভেম্বর থেকেই উপকূল জুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ নজরদারি। সৈকতের পাশাপাশি সমুদ্রেও চলছে টহল। করা হচ্ছে আরও বেশকিছু পদক্ষেপ।

ডিসেম্বর মাস এলেই তামিলনাড়ুর সমুদ্রসৈকতে শুরু হয় এক বিশেষ ব্যস্ততা। দূর সমুদ্র পেরিয়ে ডিম পাড়তে আসে অলিভ রিডলে প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ। এবার তাদের নিরাপদে ডিম পাড়ার ব্যবস্থা করতে নভেম্বর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে তামিলনাড়ুর বন দফতর।

চেন্নাইয়ের উপকূল জুড়ে শুরু হয়েছে নজরদারি। কোথাও সৈকতে হেঁটে টহল দিচ্ছেন বনকর্মীরা, কোথাও আবার সমুদ্রে নৌকা নিয়ে চলছে নজরদারি। চেন্নাইয়ের বন্যপ্রাণ বিভাগের আধিকারিক ভার্গব তেজা জানিয়েছেন নিয়ম মেনে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন, প্রতিবার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা করে চলবে এই টহল। বিশেষ নজর থাকবে সেইসব জায়গায় যেখানে সাধারণত কচ্ছপেরা এসে ডিম পাড়ে।

মারিনা বিচ থেকে নীলাঙ্কারাই ও উথান্ডি পর্যন্ত উপকূলের দায়িত্বে থাকছে ১টি দল। অন্যদিকে পুলিকট উপকূলেও চলবে একই ব্যবস্থা। সৈকত পরিস্কার রাখা, কচ্ছপের চলার পথে বাধা সরানো এবং ডিম পাড়ার জায়গাগুলি চিহ্নিত করার কাজও শুরু হচ্ছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে স্বেচ্ছাসেবকদের। কোথাও কচ্ছপ বা ডিম বিপদের মুখে পড়লে দ্রুত খবর দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

সমুদ্রে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারের দিকেও থাকবে কড়া নজর। মৎস্য দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে টহল দিচ্ছে মেরিন এলিট ফোর্স। কারণ মাছ ধরার জালে জড়িয়ে অনেক সময় প্রাণ হারায় এই কচ্ছপেরা। বিশেষ করে যন্ত্রচালিত ট্রলার বিপদ বাড়িয়ে দেয়। তাই মাছ ধরার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখবেন আধিকারিকেরা।

বন দফতরের লক্ষ্য একটাই। কচ্ছপেরা যেন নির্বিঘ্নে ডিম পাড়তে পারে আর ডিম ফুটে বেরোনো ছোট্ট কচ্ছপগুলি নিরাপদে পৌঁছতে পারে সমুদ্রে। প্রতিবছর এই সময় উপকূলে আসা কচ্ছপদের জন্য তাই আগে থেকেই সুরক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article