SciTech

সমুদ্রের ৫০০ মিটার নিচে সোনার গাছ, তৈরি হল নতুন পরিবার

সমুদ্রের ৫০০ মিটার গভীরে সোনালি গাছের মতো অদ্ভুত প্রবাল। ডিএনএ পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীদের তৈরি করতে হল নতুন পরিবার।

মহাসাগরের গভীরে যেন লুকিয়ে রয়েছে সোনার গাছের বন। চারপাশে ছড়িয়ে অসংখ্য তারার মতো প্রাণি। তারই মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে উজ্জ্বল হলুদ রঙের আশ্চর্য সব শাখা। দৃশ্যটা কল্পনার জগতের বলে মনে হলেও পুরোপুরি বাস্তব। তবে এগুলি গাছ নয়। এগুলি একেবারেই অন্য ধরনের প্রবাল।

কোস্টারিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬০ থেকে ৫২৯ মিটার নিচে এই প্রবালের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোথাও কোথাও ১ মিটারেরও বেশি লম্বা হয়ে ওঠে এদের কলোনি।

পাথুরে সমুদ্রতলে এদের ঘিরে থাকে ব্রিটল স্টার নামে অসংখ্য তারামাছের আত্মীয় এক প্রাণি। ফলে হলুদ প্রবাল আর তারার মতো প্রাণিদের মেলবন্ধনে তৈরি হয় অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য।

নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম লরিঙ্কে এলেনিয়া। নামের মধ্যেও রয়েছে সোনালি গাছ আর নক্ষত্রের ইঙ্গিত। ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের সমুদ্র অভিযান থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করেন গবেষকেরা।

প্রথমে প্রবালটির পরিচয় নির্ধারণ করতে গিয়ে তাঁরা রীতিমতো ধন্দে পড়েন। কারণ, ৩টি জিন পরীক্ষা করে ৩ রকম ফল পাওয়া যায়। কোনওটিই নিশ্চিতভাবে এর পরিচয় জানাতে পারেনি।

এরপর আরও বহু জিনের তুলনামূলক বিশ্লেষণে সামনে আসে চমক। পরিচিত কোনও প্রবাল পরিবারের মধ্যেই ফেলা যাচ্ছেনা এই প্রাণিটিকে। তাই লরিঙ্কুইডি নামে একেবারে নতুন পরিবার তৈরি করতে হয়েছে বিজ্ঞানীদের।

কোস্টারিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ওডালিসকা ব্রিডির নেতৃত্বে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান পত্রিকা জুকিজ-এ। আবিষ্কারটি আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, পৃথিবীর গভীর সমুদ্রের বিপুল অংশ সম্পর্কে এখনও মানুষের জানা কত সামান্য। সেখানে হয়তো অপেক্ষা করে রয়েছে এমন আরও অনেক বিস্ময়কর প্রাণি, যাদের কথা মানুষ এখনও জানেই না।

Show Full Article