World

ধর্মীয় নেতাদের কড়া নিষেধ সত্ত্বেও তাবিজ ব্যবহার চলেছে ৬০০ বছর, কেন জানালেন গবেষকেরা

ধর্মীয় নেতাদের কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও খ্রিস্টপূর্ব থেকে খ্রিস্ট পরবর্তী সময় পর্যন্ত ৬০০ বছর চলেছে তাবিজ ব্যবহার। কারা এবং কেন ব্যবহার করতেন এমন তাবিজ।

ধর্মীয় নেতাদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা। তবু শত শত বছর ধরে মানুষ গলায় ঝুলিয়েছেন তাবিজ। কেন একাজ করতেন তাঁরা? প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের প্রায় ৩০০টি তাবিজ পরীক্ষা করে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন এক গবেষক।

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর সূত্রপাতের সময় পর্যন্ত রোমান সাম্রাজ্যে তাবিজের প্রচলন ছিল। কেউ রোগ সারানোর আশায় তাবিজ পরতেন, কেউ বিপদ থেকে রক্ষা পেতেও তাবিজ পরতেন।

বাড়ির দেওয়ালে কিংবা ক্ষেতের পাশে রাখা হত তাবিজ। কোথায় রাখা হচ্ছে, তা ছিল বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খ্রিস্টধর্ম ছড়িয়ে পড়ার পরও এই অভ্যাস বন্ধ হয়নি। বরং পাল্টেছিল তাবিজের গায়ে লেখা বার্তাসমূহ।

ধাতুর পাত বা প্যাপিরাসের তাবিজগুলিতে অনেকক্ষেত্রে ঠাঁই পেয়েছ বাইবেলের অংশ। কোনও কোনও তাবিজ আবার ক্রসের আকারের। তবে সেকালে ধর্মীয় নেতাদের একাংশ এই প্রথার ঘোর বিরোধী ছিলেন। এমনকি তাবিজ ব্যবহার করলে ধর্মীয় নেতারা ধর্মচ্যুত করার হুঁশিয়ারিও দিতেন।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও ধর্মযাজকদের একাংশ তাবিজগুলি তৈরি করতেন বলে গবেষণালব্ধ ফলাফলে জানা গিয়েছে। আরও আজব তথ্য মিলেছে তাবিজের গায়ের লেখালেখিতে। কোনও কোনও তাবিজে জ্বর কমানোর আশায় ‘আব্রাক্যাডাব্রা’ শব্দটি খুবই ছোট করে লেখা থাকত।

একটি পুরনো ধাতব তাবিজে আবার আধকপালি মাথাব্যথার যন্ত্রণা দূর করার বার্তা মিলেছে। নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক প্যাট্রিসিয়া ক্রেটের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে তাবিজ ছিল বিশ্বাসযোগ্য একটি বস্তু।

সম্ভবত অনেকের কাছে সেটি ছিল বাইবেলের এমন একমাত্র অংশ, যা তাঁরা নিজের হেফাজতে রাখতেন। তাবিজগুলি মানুষের বিশ্বাসের ইতিহাস জানায়, অলৌকিক শক্তি বা রোগ সারানোর কার্যকারিতার প্রমাণ দেয় না।

Show Full Article