এমন হিংস্র ডাইনোসরও পৃথিবীতে ছিল, নতুন প্রজাতির খবর দিল ১০২ বছর ধরে পড়ে থাকা জীবাশ্ম
১০২ বছর ধরে একটি জাদুঘরে পড়ে থাকা জীবাশ্ম এবার এক একদম নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের খোঁজ দিল। যারা ছিল হিংস্র এবং মাংসাশী। এমন ডাইনোসরও ছিল এ পৃথিবীতে।
প্রায় ১০২ বছর ধরে জাদুঘরের সংগ্রহে ছিল একটি হাড়। কেউ টেরই পাননি সেই হাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এমন এক প্রজাতির ডাইনোসরের পরিচয় যার অস্তিত্ব এতদিন জানা ছিল না। অবশেষে আধুনিক প্রযুক্তি খুলে দিল রহস্যের দরজা।
১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের আইল অফ ওয়াইট দ্বীপে পাওয়া গিয়েছিল ডাইনোসরের মাথার খুলির পিছনের অংশ। পরে সেটি পৌঁছয় লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে। তবে দীর্ঘদিন জীবাশ্মটি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষিত হয়। সম্প্রতি গবেষকরা সিটি স্ক্যান করে হাড়টির ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করেন।
অন্য মাংসাশী ডাইনোসরদের মাথার খুলির সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন কিছু ব্যতিক্রমী গঠন। বিশেষত মস্তিষ্কের সঙ্গে সুষুম্নাকাণ্ডের সংযোগস্থলের ছিদ্র এবং বালিঘড়ির মতো আকৃতির হাড়ের উঁচু অংশ বিজ্ঞানীদের নজর কাড়ে।
এরপর জানা যায় ওই নতুন প্রজাতির নাম ইনভিক্টিবেলাট্রিক্স অ্যাম্বেরিনা। প্রায় ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত এই মাংসাশী ডাইনোসর। এটি মেগার্যাপটোরান গোষ্ঠীর সদস্য। ইউরোপে এই গোষ্ঠীর উপস্থিতির প্রথম নিশ্চিত জীবাশ্ম প্রমাণও এটি।
গবেষকদের অনুমান প্রাণিটি প্রায় ৩ থেকে ৪ মিটার লম্বা ছিল। তার শক্তিশালী সামনের পায়ে থাকতে পারে ১০ সেন্টিমিটার থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা বাঁকানো নখ। শরীরে পালকের মতো আবরণও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এগুলি সরাসরি পাওয়া জীবাশ্ম মারফত জানা যায়নি। নিকটাত্মীয় ডাইনোসরদের বৈশিষ্ট্য থেকে এই ধারনা মিলেছে। আর এখানেই লুকিয়ে সবচেয়ে বড় বিস্ময়।
একটি অসম্পূর্ণ মাথার হাড় শুধু নতুন প্রজাতির পরিচয় দিল না, প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীতে মাংসাশী ডাইনোসরদের ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাসও বিজ্ঞানীদের নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করল।











