ডানাহীন কাঠি ফড়িংরা ছড়িয়েছিল ২২০০ কিলোমিটার এলাকায়, কীভাবে তার খোঁজ নিলেন বিজ্ঞানীরা
ফড়িংদের ডানা থাকে। কিন্তু একধরনের ফড়িং রয়েছে যাদের ডানা থাকেনা। চেহারা সরু কাঠির মত। তারপরেও তারা কীভাবে ২২০০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়াল তার খোঁজ নিলেন বিজ্ঞানীরা।
ডানা নেই। তাই তারা উড়তে অপারগ। অথচ এককালে বিশেষ এই প্রজাতির ফড়িং হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। আর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এই আশ্চর্য যাত্রা? প্রশ্নের সন্ধানে নয়া সূত্র মিলেছে একটি ছোট্ট ফড়িংকে কেন্দ্র করে।
অস্ট্রেলিয়ার মারে ম্যালি অঞ্চলের গবেষকরা সনাক্ত করেছেন ম্যাচস্টিক গ্রাসহপারের একটি প্রজাতি। সেটির নাম কিয়াক্রিস বুঙ্গুনিয়া। এদের দেখতে অনেকটা সরু কাঠির মতো। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যে, পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পরও এদের ডানা গজায় না। ফলে অন্য প্রজাতির ফড়িংদের মতো উড়ে দূরবর্তী এলাকায় যাওয়ার ক্ষমতাও নেই।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পৃথক পৃথক ছোট বনাঞ্চল এবং প্রাকৃতিক আবাসে থাকা এই ফড়িং গোষ্ঠীর মধ্যে জিনগত পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন। যদিও অতীত ইতিহাস অন্য কথা বলছে।
একই ধরনের ডানাহীন ফড়িংয়ের একটি প্রজাতি বহু প্রজন্ম ধরে ধীরে ধীরে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার বিস্তার লাভ করেছিল। তবে এক লাফে নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নতুন এলাকায় বিস্তার ঘটে তাদের। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। চাষের জমি এবং বিচ্ছিন্ন আবাসস্থলের কারণে তাদের চলাচলের পথ অনেক স্থানে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
আগুন লাগলে কিংবা খরা হলে বা অতিরিক্ত পশুচারণও একটি ছোট গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে। তবে এ সংক্রান্ত গবেষণা আশার কথা শুনিয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, খাদ্য হিসেবে উপযোগী গাছপালা থাকলে স্বল্প এলাকাতেও এরা টিকে থাকতে পারে।
ছোট প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল অন্য বিরল প্রজাতির প্রাণিরও নিরাপদ ঠিকানা হতে পারে। তবে বন্যপ্রাণি বাঁচাতে সর্বদা বিশাল অভয়ারণ্যের প্রয়োজন, এমন কিন্তু নয়। কখনও বা ছোট্ট এক টুকরো জমি অমূল্য আশ্রয় হতে পারে।











