World

৬২ কোটি বছর পুরনো সমুদ্র প্রাণের হদিশ দিল রাস্তার ধারে পড়ে থাকা পাথরের টুকরো

একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীর সিংহভাগ বরফে ঢাকা ছিল। সে সময় সমুদ্র প্রাণের চেহারা কেমন ছিল তার ধারনা দিল রাস্তার ধারে পড়ে থাকা পাথরের টুকরো।

একটা সময় পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অংশ বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছিল। এমনকি নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রেও পৌঁছেছিল বরফ। বিজ্ঞানীরা এই সময়কে ‘স্নোবল আর্থ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তুষার যুগ সমাপ্ত হওয়ার পর সামুদ্রিক প্রাণিরা কীভাবে ফের ছড়িয়ে পড়ল, উঠছে এই প্রশ্ন।

এরই কিছু সূত্র মিলেছে চিনের একটি রাস্তার ধারে। চিনের হুবেই প্রদেশে আনচাংপিং অঞ্চলের শিলাস্তর পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন অসংখ্য প্রাচীন সামুদ্রিক জীবাশ্ম। ওই জীবাশ্মগুলির সম্ভাব্য বয়স প্রায় ৬১ থেকে ৬২ কোটি বছর।

পৃথিবীর স্নোবল আর্থ পর্ব শেষ হওয়ার প্রায় দেড় থেকে আড়াই কোটি বছর পরের সামুদ্রিক জীবনের ছবি ওই শিলাস্তরে ধরা রয়েছে। গবেষকেরা সেখানে ৩৫ প্রজাতির আণুবীক্ষণিক জীবাশ্ম সনাক্ত করেন। এর মধ্যে ৩টি প্রজাতি নতুন।

শুধুমাত্র তাই নয়, পাওয়া গিয়েছে তুলনামূলক ভাবে বড় ৬ ধরনের জীবাশ্ম। কোনওটি দেখতে সরু ফিতের মতো, কোনওটি শাখাপ্রশাখা ছড়িয়ে থাকা, আবার কোনওটিকে দেখতে ডাঁটির মাথার ছোট্ট বেলুনের মতো।

এই আজব আকারগুলি দেখে গবেষকদের ধারনা, সমুদ্রের জলে ভেসে বেড়ানো অতি ক্ষুদ্র জীবের পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশে শৈবাল ছিল। একই শিলাস্তরে এমন ২ ধরনের জীবাশ্ম পাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ তুষার যুগের পর সমুদ্রে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল নানা ধরনের জীবের সহাবস্থান।

এনিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে। শিলাস্তরের বয়স সরাসরি রেডিওমেট্রিক পদ্ধতিতে মাপা হয়নি। অন্য শিলাস্তরের সঙ্গে তুলনা করে বয়স অনুমান করা হয়েছে। এজন্য আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো দরকার।

কমিউনিকেশনস বায়োলজি পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণা জানাচ্ছে, কয়েক মিলিমিটারের এই জীবাশ্ম পৃথিবীতে জটিল সামুদ্রিক জীবনের বিকাশের এক হারানো অধ্যায়ের দুয়ার খুলে দিতে পারে।

Show Full Article