ছোট্ট বেড়ালছানা ভেবে বাড়ি এনে পোষার পর জানা গেল সেটি কোনও পরিচিত বেড়ালই নয়
রাস্তায় পড়ে থাকা একটি বেড়ালছানাকে দেখার পর সেটিকে বাড়ি নিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। পরে তিনি জানতে পারেন বেড়ালছানা ভেবে যে প্রাণিকে পুষছেন তা বেড়ালই নয়।
রাস্তার ধারে পড়েছিল ছোট্ট একটি বেড়ালছানা। গায়ে কালচে ছোপ। দেখতে অনেকটা সাধারণ বেড়ালের মতোই। মায়া হওয়ায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যান এক ব্যক্তি। প্রায় ১ বছর নিজের পোষা বেড়াল হিসাবেই পালন করেন। কিন্তু তখনও তিনি জানতেন না, তাঁর বাড়িতে বেড়ে উঠছে এমন এক প্রাণি, যার প্রজাতির কথা বিজ্ঞানীদেরই জানা নেই।
ঘটনাটি দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার। সেখানকার ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলের জঙ্গলের কাছে পাওয়া গিয়েছিল বেড়ালছানাটিকে। বাড়িতে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আচরণে বন্য স্বভাব স্পষ্ট হতে থাকে। শেষপর্যন্ত তাকে স্থানীয় একটি বন্যপ্রাণি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সেখানেই প্রাণিটিকে দেখে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন এক জীববিজ্ঞানী। পরিচিত টাইগার ক্যাটের সঙ্গে এ বেড়ালের চেহারার কিছু অমিল তাঁর নজরে পড়ে। শুরু হয় অনুসন্ধান।
দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ৩৮টি বেড়ালের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা। আর তাতেই সামনে আসে অবাক করা তথ্য। প্রাণিটি পরিচিত কোনও টাইগার ক্যাট প্রজাতির সদস্য নয়। এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি প্রজাতি।
বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন লিওপার্ডাস টিলকাও। গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় ১৪ লক্ষ বছর আগে অন্য টাইগার ক্যাটদের পূর্বপুরুষের বংশধারা থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল এই প্রাণির বংশধারা। অথচ এতদিন তার স্বতন্ত্র পরিচয় অজানাই থেকে গিয়েছিল বিজ্ঞানের কাছে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরে এই প্রথম জীবিত বেড়াল জাতীয় এ প্রাণির সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেন বিজ্ঞানীরা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কারেন্ট বায়োলজি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি। তবে ইয়ুঙ্গাসের জঙ্গলে এমন বেড়াল ঠিক কতগুলি রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।











