সমুদ্রের নিচে পাওয়া গেল প্রাচীন আংটি, আংটির গায়ে সপ্তাশ্চর্যের ছাপ
সমুদ্রকে বলা হয় রত্নগর্ভা। সেই সমুদ্রের তলায় যে কত কিছু পড়ে আছে তা এখনও অজানা। এমনই এক আশ্চর্য আংটির দেখা মিলল জলের তলায়।
সমুদ্রের তলায় হারিয়ে গিয়েছিল এক রাজপ্রাসাদ। সেই প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ থেকেই এবার উঠে এল ছোট্ট একটি আংটি। কিন্তু সাধারণ কোনও আংটি নয়। এর গায়ে খোদাই করা রয়েছে এমন এক স্থাপত্যের ছবি, যা একসময় ছিল প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। অথচ সেই আশ্চর্য স্থাপত্য আজ পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে।
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরের জলের নিচে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। সেখানেই ডুবে যাওয়া অ্যান্টিরোডস দ্বীপের প্রাচীন রাজপ্রাসাদে খোঁজ চালিয়ে পাওয়া যায় ব্রোঞ্জের তৈরি একটি আংটি। তাতে খোদাই করা ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত বাতিঘরের ছবি।
ফারোস দ্বীপে তৈরি সেই বিশাল বাতিঘর কয়েক শতাব্দী ধরে ভূমধ্যসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে বন্দরের পথ দেখাত। একশো মিটারেরও বেশি উঁচু এই স্থাপত্য নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে। পরে একাধিক ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় বাতিঘরটি।
গবেষকদের দাবি, কোনও সিলমোহরের মত আংটিতে এই বাতিঘরের ছবি আরও একটি দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে কোনও আংটিতে এই বাতিঘরের ছবি দেখতে পাওয়া যায়নি। প্রাচীন মুদ্রায় বাতিঘরটির ছবি দেখা গিয়েছিল।
এই ধরনের আংটি একসময় নরম মোম বা কাদার ওপর ছাপ ফেলতে ব্যবহার করা হত। চিঠিপত্র কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথির সত্যতা বোঝানোর কাজেও লাগত। তাই আংটিটি শুধু একটি অলংকার নয়, প্রাচীন প্রশাসনিক ব্যবস্থারও সাক্ষী।
মিশরের সুপ্রিম কাউন্সিল অফ অ্যান্টিকুইটিজ এবং ইউরোপীয় আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজি ইন্সটিটিউটের যৌথ অনুসন্ধানে এই আবিষ্কার হয়েছে। সমুদ্রের নিচে হারিয়ে যাওয়া রাজপ্রাসাদ আর পৃথিবীর হারানো সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে এবার যেন নতুন এক যোগসূত্র তৈরি করল এই ব্রোঞ্জের আংটিটি।











