৯০ লক্ষ বছর পুরনো দাঁত বদলে দিল মরুভূমির ইতিহাস, একসময় ছিল নদী আর জঙ্গল
পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক আতাকামা মরুভূমিতে মিলল ৯০ লক্ষ বছরের ক্যাপিবারা জাতীয় প্রাণির দাঁত। একসময় কি সেখানে বইত নদী, ছিল জঙ্গল, উঠছে প্রশ্ন।
পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক মরুভূমি। যেখানে বৃষ্টির দেখা পাওয়া কার্যত ভাগ্যের ব্যাপার। চারদিকে শুধু ধুধু প্রান্তর। সেই মরুভূমির বুকেই কিনা পাওয়া গেল এমন এক প্রাণির দাঁত, যে জল ছাড়া বাঁচতেই পারে না। চিলির আতাকামা মরুভূমিতে এমনই এক আবিষ্কার রীতিমতো চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের। কারণ দাঁতটির বয়স প্রায় ৯০ লক্ষ বছর।
দাঁতটি ক্যাপিবারা জাতীয় এক বিলুপ্ত প্রাণির। ক্যাপিবারা হল বিশ্বের বৃহত্তম জীবিত ইঁদুরজাতীয় প্রাণি। এরা সাধারণত নদী, হ্রদ কিংবা জলাভূমির আশপাশে থাকে।
ফলে পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক অঞ্চলে এদের প্রাচীন আত্মীয়ের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যে জায়গায় আজ জলের চিহ্নমাত্র পাওয়া কঠিন, সেখানে এমন প্রাণি বেঁচে ছিল কীভাবে?
গবেষকেরা দাঁতটি পেয়েছেন আতাকামার এল মোরো অঞ্চলের প্রাচীন পলিস্তরে। শুধু দাঁতই নয়, ওই অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছে পাম গাছ, ঘাস এবং অন্যান্য উদ্ভিদের অতিক্ষুদ্র জীবাশ্মও।
পাওয়া গিয়েছে মিষ্টি জলের মাছ ও কুমিরজাতীয় প্রাণির জীবাশ্ম। সব মিলিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারনা, প্রায় ৯০ লক্ষ বছর আগে আতাকামার অন্তত কিছু অংশে নদী, জলাভূমি এবং সবুজ গাছপালার সমারোহ ছিল।
আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, এই প্রাণিগুলি সেখানে পৌঁছল কীভাবে? বিজ্ঞানীদের অনুমান, আন্দিজ পর্বতমালা পেরিয়ে নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর বিস্তৃত প্রাচীন জলাভূমির পথ ধরে তারা সেখানে পৌঁছেছিল।
এই আবিষ্কার আতাকামা মরুভূমির ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত ধারনাকেও নতুন করে ভাবাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন না যে গোটা মরুভূমিই একসময় ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। তবে অঞ্চলটির জলবায়ু যে অতীতে অনেক বেশি আর্দ্র ছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে। একটিমাত্র দাঁত এভাবেই তুলে ধরল লক্ষ লক্ষ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক সবুজ পৃথিবীর সম্ভাব্য ছবি।











