সন্তান শোক অন্য প্রাণিদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী রইল অতল সমুদ্র
সন্তান শোকে কাতর মানুষ অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু সন্তান শোকে কাতর এবং তাকে ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় ২ দিনের দিনরাত এক করা লড়াই দেখল নীল সমুদ্র।
সমুদ্রের গভীরে বিশালাকার দেহটি বারবার ডুব দিচ্ছিল। সেখানে নিথর হয়ে পড়ে একটি সদ্যোজাত তিমি শাবক। শাবকটিকে ছেড়ে কিছুতেই যেন সরে যেতে পারছিল না মা তিমি। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের কাছে ধরা পড়া এই দৃশ্য এখন বিজ্ঞানীদের ভাবাচ্ছে একটি জটিল প্রশ্ন নিয়ে। তা হল মানুষের মতো অন্য প্রাণিরাও কি প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা অনুভব করে?
ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৭ জুলাইয়ের। পাম বিচের কাছের সমুদ্রে প্রথমে ২টি পূর্ণবয়স্ক হাম্পব্যাক তিমিকে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে একটি তিমি শাবকের জন্ম হয়। এদিকে শাবকটির শরীরে কোনও নড়াচড়া অথবা শ্বাসপ্রশ্বাসের লক্ষণ ছিল না। এরপর শাবকটি সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
এই ঘটনার পরে সামনে আসে মা তিমির আজব মায়া। মা তিমিটি বারবার সাগরের নিচে নেমে আসছিল। কখনও মাথা দিয়ে, কখনও বুকের লম্বা পাখনা দিয়ে স্পর্শ করছিল প্রাণহীন শাবককে। কখনও আবার শাবকের চোখের কাছাকাছি এসে নিজের চোখ রেখে স্থির চোখে প্রাণহীন শাবকটিকে দেখছিল।
গবেষকদের ক্যামেরায় এই বিরল মুহুর্তগুলি ধরা পড়ে। প্রায় ২ ঘণ্টার নজরদারিতে তিমির এমন আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। পরের ২ দিন ওই এলাকায় ২টি বড় তিমির উপস্থিতির খবর মেলে। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে ডিসকভার অ্যানিম্যালস পত্রিকায়।
ডলফিন এবং কিছু দাঁতওয়ালা তিমির মধ্যে প্রাণহীন শাবককে ঘিরে এমন মায়াশীল আচরণ আগে দেখা গেলেও কুঁজো তিমির ক্ষেত্রে এধরনের ঘটনা বিরল। বিজ্ঞানীদের মতে এই ঘটনা মাতৃত্বের গভীর বন্ধনের ইঙ্গিত দেয়।
তবে তিমিটি সত্যিই মানুষের মতো শোক অনুভব করছিল নাকি শাবকের প্রতি সহজাত যত্নের প্রবৃত্তিতে এমন আচরণ করছিল, তা এখনও অজানা। এই অজানাই ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।











