World

২ হাজার বছর প্রাচীন পোড়া বই না খুলেই পড়ে ফেলার চেষ্টা, অসম্ভবকে সম্ভব করলেন বিজ্ঞানীরা

বইগুলোর বয়স ২০০০ বছর। তাও আবার অগ্নুৎপাতে পোড়া। সেসব বই না খুলে তা পড়ে ফেলার কৌশল আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা। যেভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন তাঁরা।

২ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে দগ্ধ অবস্থায় থাকা একের পর এক বই। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, সেগুলি যেন পোড়া কাঠকয়লার টুকরো। অথচ তার ভিতরেই হয়তো লুকিয়ে আছে প্রাচীন যুগের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস।

৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ধ্বংস করেছিল হারকিউলেনিয়াম শহর। সেখানে অবস্থিত একটি গ্রন্থাগারের প্যাপিরাসে লেখা বহু স্ক্রোল প্রবল তাপে পুড়ে কার্বনে পরিণত হয়। বিস্ময়কর ভাবে এর অনেকগুলি আজও টিকে রয়েছে। যদিও খুলে পড়ার চেষ্টা করলেই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই সমস্যার সমাধানে পথ দেখিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্কলের গবেষকেরা। তাঁরা আধুনিক প্যাপিরাসে সামান্য সিসা মেশানো কালি দিয়ে কিছু শব্দ লিখে সেটি পাকিয়ে স্ক্রোল তৈরি করেন। এরপর তা বিশেষভাবে পুড়িয়ে তাকে প্রাচীন স্ক্রোলের মতো ভঙ্গুর করে তোলেন।

পরবর্তী ধাপে এক্স-রে টোমোগ্রাফির সাহায্যে স্ক্রোলের ভিতরের স্তরগুলি পরীক্ষা করা হয়। কম্পিউটারের সাহায্যে সেই পাকানো স্তরগুলিকে ভার্চুয়ালি খুলে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া পাতার সঙ্গে তুলনায় সিসাযুক্ত কালি স্পষ্ট ধরা পড়ছে। ফলে স্ক্রোল না খুলেই বইয়ে লেখা শব্দ পড়তে সক্ষম হন গবেষকেরা।

আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এই যে, হাতে ধরা বিশেষ এক্স-রে যন্ত্র দিয়েও সিসার উপস্থিতি সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে কোন প্রাচীন স্ক্রোলে লেখা উদ্ধারের সম্ভাবনা বেশি তা আগেভাগেই বেছে নেওয়া সম্ভব হবে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এই সফলতা মিলেছে পরীক্ষাগারে তৈরি কৃত্রিম স্ক্রোলে। নতুন এই পদ্ধতির মাধ্যমে এখনও আসল হারকিউলেনিয়ামের অজানা লেখা উদ্ধার হয়নি। প্রায় ২ হাজার বছর ধরে বন্ধ থাকা বইয়ের পাতায় লুকোনো ইতিহাস আদৌ কি বাস্তবে উদ্ধার সম্ভব, প্রশ্নটা রয়েই গেছে।

Show Full Article