অভিনব উপায়ে হত ভাগ্যগণনা, ১৮০০ বছর আগে কীভাবে জানা হত ভবিষ্যৎ
অভিনব এক পদ্ধতিতে ভাগ্যগণনা করতেন প্রাচীনকালের মানুষ। প্রায় ২ হাজার বছর পুরনো এক লেখনী থেকে জানা গেল সেই পদ্ধতির কথা।
ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে? যাত্রা শুভ হবে তো? অসুখবিসুখ সারবে? প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছর আগে এমনই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ ব্যবহার করত পশুর হাড়। আর এইসব প্রশ্নের কী ধরনের উত্তর মিলবে, সেই সম্পর্কে নিয়মকানুন লেখা থাকত পাথরের ফলকের গায়ে।
তুরস্কের দক্ষিণ পশ্চিমে প্রাচীন কিবিরা শহরে ২০২৪ সালে খননকার্য চালিয়ে পাওয়া একটি চুনাপাথরের ফলক ঘিরে এমনই তথ্য সামনে এসেছে। শহরের প্রাচীন বাজার এলাকার একটি উপাসনালয়ের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় ওই ফলক।
ফলকের চারদিকে খোদাই করা গ্রিক ভাষায় লেখালেখিগুলি পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখেছেন, এটি সেকালের ভাগ্যগণনা সম্পর্কে নির্দেশিকা। ফলকটির বয়স প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছর। ভাগ্যগণনার পদ্ধতি অভিনব।
ভেড়া, ছাগল কিংবা বাছুরের পায়ের গাঁটের ৫টি ছোট হাড় একসঙ্গে ছোড়া হত। প্রতিটি হাড়ের ভিন্ন পিঠের জন্য নির্দিষ্ট ছিল ১, ৩, ৪ এবং ৬ সংখ্যাটি। কীভাবে হাড়গুলি পাথরের ফলকের গায়ে গিয়ে পড়ল, এর ভিত্তিতে স্থির হত মোট ৫৬ রকমের ফলাফল। ফলকে প্রত্যেক ফলের সঙ্গে নানাধরনের দেবতার নাম, সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরামর্শও থাকত।
৫টি হাড়ে যদি ১ সংখ্যাটি উঠত, তাহলে তা জিউসের বার্তা হিসাবে ধরা হত। আবার অ্যাপোলোর নামাঙ্কিত একটি নির্দেশ অনুসারে কখনও তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ, কেনাকাটা, কখনও বা অসুস্থতাজনিত উদ্বেগের উত্তর এই পদ্ধতিতে খুঁজতেন সেকালের মানুষ।
গবেষকেরা এই ফলকটির লেখার সঙ্গে অন্য শহরে ব্যবহৃত একইধরনের ভবিষ্যৎ গণনার ফলকের লেখাও মিলিয়ে দেখেছেন। কিছুক্ষেত্রে অবশ্য বানান এবং ছন্দের ভ্রান্তি ধরা পড়েছে।
ফলকের গোড়ায় গ্রিক দেবতা হার্মিসের মূর্তি স্থাপনের ইঙ্গিত আছে। এধরনের ব্যবস্থা যাতে সাধারণ মানুষের ব্যবহার করতে সুবিধা হয় তাই সেসময় বাজারের কাছাকাছি এলাকায় রাখা হত।
এভাবে ভবিষ্যৎ সত্যিই জানা যেত কিনা, তার কোনও প্রমাণ যদিও নেই। তবে অনিশ্চয়তা থেকে প্রাচীন মানুষ কীভাবে দেবতার কাছে খুঁজতেন নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর, এর বিরল সাক্ষী এই ফলক।











