৪০০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি, বন্যা বিপন্ন ২ হাজার গ্রাম, আতান্তরে ১১ লক্ষ মানুষ
চেষ্টা চলছে উদ্ধারের। ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমসিম দশা প্রশাসনের। ৪০০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি কি অবস্থা করতে পারে তার উদাহরণ এই রাজ্য।
বন্যা এ রাজ্যে নতুন কিছু নয়। ফি বছর এখানে বেশ কিছু জায়গা বন্যার কবলে পড়ে। নদীর দুকূল ছাপিয়ে জল ঢোকে গ্রামে, বসতিতে। কিন্তু সেই প্রতিবছরের বন্যার সমস্যার সঙ্গে কীভাবে লড়াই করতে হবে সেটাও মানুষজনের জানা হয়ে গেছে।
প্রশাসনও জানে কীভাবে সেই বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। কিন্তু এবার যা হয়েছে তা প্রতিবছরের চেনা বন্যা নয়, বরং একেবারেই অচেনা প্লাবন। অল্প সময়ের মধ্যে অসমে ৪০০ শতাংশ বৃষ্টি বেশি হয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিতে জল হুহু করে বেড়েছে। আর তার জেরে এখনও পর্যন্ত ২ হাজার গ্রাম বানভাসি হয়ে গেছে।
শহুরে জায়গাতেও জল ঢুকেছে। এখনও পর্যন্ত ১১ লক্ষের ওপর মানুষ বন্যাবিধ্বস্ত। ১৬২টি ত্রাণ শিবির গঠিত হয়েছে। সেখানে ৪১ হাজার মানুষের স্থান হয়েছে।
অনেকে বন্যা থেকে বাঁচতে অন্যত্র পরিবার নিয়ে চলে গেছেন। যাঁরা তারমধ্যেও ভিটে ছেড়ে কোথাও যেতে পারেননি তাঁদের কাছে ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছে দিচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজে পুরো পরিস্থিতি ঘুরে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। জানিয়েছেন, ৪০০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি ধারনার বাইরে এক বন্যার জন্ম দিয়েছে।
বিধ্বস্ত অসমের ১১টি জেলা। এখনও পর্যন্ত ১৪ হাজার কুইন্টাল চাল, ২ হাজার কুইন্টাল ডাল, ৫৮ হাজার ৮২০ লিটার সরষের তেল সহ নানা ত্রাণ সামগ্রি বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
মানুষ ও গবাদি পশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পৌঁছে দিতে মোবাইল মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে। যাতে এই পরিস্থিতিতে রোগ ছড়িয়ে না পড়তে পারে সেদিকে নজর রাখছে অসম সরকার। উদ্ধার তরান্বিত করতে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার সঙ্গে কথা বলছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা











