মাটি খুঁড়ে পাওয়া ৬৫০০ বছরের প্রাচীন মাটির নারীমূর্তি তুলে দিল একাধিক প্ৰশ্ন
মাটির তলা থেকে প্রত্ন নিদর্শন পাওয়া নতুন নয়। প্রাচীন মূর্তি উদ্ধারও নতুন নয়। কিন্তু এভাবে পাওয়া এক প্রাচীন নারীমূর্তি একগুচ্ছ প্রশ্ন সামনে আনল।
খননকাজ শুরু হয়েছে সবে। আর প্রথম দিনেই মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এল এমন এক নারীমূর্তি যার বয়স প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বছর। রোমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়া অঞ্চলে এই আবিষ্কার ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, প্রাচীন মানুষের কাছে মূর্তিটির গুরুত্ব আসলে কী ছিল?
ট্রান্সিলভানিয়ার দামবুল সেতাত্তি নামে পরিচিত প্রত্নস্থলে ২০২৬ সালে খননের শুরুতেই ছোট্ট এই পোড়ামাটির মূর্তি উদ্ধার করেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। জায়গাটি রোমানিয়ার হারঘিতা অঞ্চলের শোইমেনি গ্রামের কাছে। গবেষকদের মতে মূর্তিটি খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০০ থেকে ৪০৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ের কুকুতেনি সংস্কৃতির নিদর্শন।
তবে বয়সের পাশাপাশি মূর্তিটির গায়ে দেখা দেওয়া একটি ফাটলও বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। কারণ ওই ফাটলেই লুকিয়ে রয়েছে এটি তৈরির কৌশল।
প্রাচীন কারিগরেরা প্রথমে আলাদা ২টি মাটির অংশ তৈরি করেছিলেন। তারপর সেগুলি জুড়ে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করেছিলেন। হাজার হাজার বছর পরে সেই জোড় বরাবর ফাটল ধরায় কারিগরির রহস্য ধরা পড়েছে।
কুকুতেনি সংস্কৃতির মানুষ নকশা আঁকা মাটির পাত্র এবং মানুষের অবয়বের মূর্তি তৈরিতে দক্ষ ছিলেন। এই সংস্কৃতির বিস্তার ছিল আজকের রোমানিয়া, মলডোভা ও ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।
এই প্রত্নস্থলে আগেও পাওয়া গিয়েছে বসতবাড়ির চিহ্ন, সরঞ্জাম এবং নানা প্রাচীন নিদর্শন। এমনকি এখান থেকে তুলনামূলক বড় নারীমূর্তিও উদ্ধার হয়েছিল।
কিন্তু এই ছোট্ট মূর্তিটি কি কোনও দেবীর প্রতীক? উর্বরতার বিশ্বাসের সঙ্গে কি এর সম্পর্ক ছিল? নাকি দৈনন্দিন জীবনে এর অন্য কোনও ব্যবহার ছিল? এখনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।
তাই সাড়ে ৬ হাজার বছর আগের এই নারীমূর্তি শুধু প্রাচীন শিল্পকলার নমুনা নয়, হারিয়ে যাওয়া এক সমাজের বিশ্বাসেরও অমীমাংসিত প্রশ্ন।











