৩৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ভিক্ষা করলেন মুম্বইয়ের রাস্তায়, কি হয়েছিল
তিনি ৩৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। সেই সঙ্গে একজন বিধায়কও। তাঁকে অবশেষে রাস্তায় নামতে হল। তাও ভিক্ষা করতে। মুম্বইয়ের রাস্তায় ভিক্ষা করলেন তিনি।
একজন সফল মানুষ তিনি। রিয়েল এস্টেট সংস্থার মালিক। সেই সঙ্গে বিজেপি বিধায়ক। মুম্বইয়ের ঘাটকোপার অঞ্চলের বিধায়ক তিনি। সেই মানুষটিকে রাস্তায় নামতে হল ভিক্ষা করতে।
গাড়ি, বাড়ি, কড়া সুরক্ষা বলয় সব ছেড়ে কাঁধে একটা ঝোলা ঝুলিয়ে ভিক্ষা করলেন তিনি। পেলেন টাকা, বিনামূল্যে সিঙ্গারা। কিন্তু কি এমন হল যে মহারাষ্ট্রের অন্যতম ধনী বিধায়ককে এভাবে রাস্তায় নেমে ভিক্ষা করতে হল?
ওই ব্যক্তির নাম পরাগ শাহ। তাঁর জৈন গুরু তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন জীবনের অহং বোধ, অর্থের দম্ভ সবকিছু মন থেকে মুছে ফেলতে। আর সেজন্য দরকার ছিল জীবনকে দেখা।
আর্থিক ও সামাজিক প্রতিপত্তি সঙ্গে করে একজন মানুষকে মানুষ কীভাবে দেখেন। তাঁর সাথে কেমন আচরণ করেন। আর এক ভিখারির সঙ্গে সেই মানুষই কেমন আচরণ করেন। জীবনের কঠিন বাস্তবটা নিজে অনুভব করতে চেয়েছিলেন পরাগ শাহ।
তাই রীতিমত মেকআপ আর্টিস্ট ডেকে তাঁকে দিয়ে নিখুঁতভাবে নিজেকে ভিখারি রূপে নিয়ে আসেন তিনি। তারপর বেরিয়ে পড়েন তাঁরই কেন্দ্রে। যেখানকার বিধায়ক তিনি।
রাস্তায় তাঁর নানা অভিজ্ঞতা হয়। তিনি ভিক্ষা চেয়ে বেড়ান। কেউ টাকা দেন। কেউ দেন না। এক হকার তাঁকে বিনামূল্যে একটি সিঙ্গারাও খাওয়ান। এভাবেই চলে বেশ কয়েক ঘণ্টা।
এরপর তিনি ফিরে আসেন। মেকআপ ত্যাগ করেন। তারপর পরাগ শাহ হিসাবে ফিরে যান যেখানে তিনি ভিক্ষা করেছিলেন সেখানে। কথা বলেন সেখানে ভিক্ষা করার সময় ভিক্ষা চাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে। জীবনকে খুব কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করেন।
তাঁর গুরুর পরামর্শে রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থ প্রাচুর্য সব ত্যাগ করে সমাজ, জীবন ও মানুষকে পথে নেমে দেখার পর পরাগ শাহ-এর বাস্তব জীবন নিয়ে অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেকটাই পূর্ণ হয়েছে। ভিক্ষুক হিসাবে কয়েকটা ঘণ্টা তাঁকে জীবনের বড় পাঠ দিতে পেরেছে। দেশের তাবড় সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি জায়গা করে নিয়েছে।











