চাকরি বাঁচাতে দিনে ১০ ঘণ্টা ঘাড় কাত করে বা কুঁজো হয়ে কাটাতে হত, অবশেষে মিলল রেহাই
তিনি পেশায় বাস কন্ডাক্টর। সরকারি বাসের কন্ডাক্টর। দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা হয় ঘাড় কাত করে বা কুঁজো হয়ে চাকরি করতে হত তাঁকে। অবশেষে মিলল রেহাই।
বাবা ছিলেন বাস কন্ডাক্টর। ২০২১ সালে তিনি প্রয়াত হন। কর্মরত অবস্থায় জীবন যাওয়ায় তাঁর ছেলে বাবার চাকরিটা পান। সেই থেকে তিনি সরকারি বাসের কন্ডাক্টর হিসাবে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু এ কাজ তাঁর জন্য এক যন্ত্রণা হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সরকারি চাকরি বলে কথা।
চাকরি রক্ষা করতে কষ্ট সহ্য করেও চালিয়ে যাচ্ছিলেন কাজ। কিসের কষ্ট? তেলেঙ্গানা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের হায়দরাবাদের একটি ডিপোতে আমিন আহমেদ আনসারি বাস কন্ডাক্টর হিসাবে কর্মরত। তাঁর উচ্চতা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি।
এদিকে বাসের ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি। ফলে ঘাড় সোজা রেখে বাসের মধ্যে যাতায়াত সম্ভব ছিলনা আনসারির। তাই বাসের মধ্যে টিকিট কাটার জন্য যাতায়াত করতে হলে তাঁকে হয় ঘাড় কাত করতে হত, অথবা কুঁজো হয়ে বা ঝুঁকে এগিয়ে যেতে হত।
বাসের ছাদের চেয়েও তাঁর উচ্চতা বেশি হওয়ায় এভাবেই তাঁকে সারাদিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে যেতে হয়। যা তাঁর ঘাড় ও কোমরে সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে।
আনসারি তাঁর সমস্যার কথা জানিয়ে অন্যকোনও কাজে তাঁকে নিয়োজিত করার আবেদন অনেকদিন ধরেই জানাচ্ছিলেন। অবশেষ তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে তেলেঙ্গানা সরকার। তাঁকে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তেলেঙ্গানা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাস পাস বিভাগে কাজ করানোর নির্দেশ জারি হয়েছে।
বিমানবন্দর বা বাস পাস বিভাগে যেখানে যখন দরকার পড়বে আনসারিকে সেখানে কাজে লাগানো হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা বার হওয়ার পর অবশেষে আনসারি ঘাড় কাত করে বা কুঁজো হয়ে সারাদিন কাটানোর যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেলেন। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা












