আলো দিয়ে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করলেন গবেষকেরা, কতটা ক্ষমতাশালী সেই মস্তিষ্ক
আলো দিয়ে তৈরি হল একধরনের কৃত্রিম মস্তিষ্ক। যা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। আগামী দিনে অপটিক্যাল ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে দিশা দেখাতে পারে এই নতুন আবিষ্কার।
মানব মস্তিষ্কে থাকে কোটি কোটি স্নায়ুকোষ। কম্পিউটারে থাকে জটিল বৈদ্যুতিন ব্যবস্থা। কিন্তু যদি আলো দিয়ে নির্মিত হয় এমন কোনও যন্ত্র যা কোনও ছবি পুরোপুরিভাবে না দেখে এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা তথ্য চিনতে পারে? বিজ্ঞানীরা এবার এমনই অভিনব এক ব্যবস্থা তৈরি করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গের ইউনিভার্সিটি অফ দ্যা উইটওয়াটার্সরান্ডের গবেষকরা এই ব্যবস্থার নামকরণ করেছেন লাইট-পাওয়ার্ড ব্রেন। যদিও লাইট-পাওয়ার্ড ব্রেন মানুষের মতো করে ভাবনাচিন্তা করতে পারেনা। এটি প্রকৃতপক্ষে আলো ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সনাক্ত করার জন্য বিশেষ ধরনের অপটিক্যাল নিউরাল নেটওয়ার্ক।
বিষয়টি বুঝতে পাকানো একটি ফিতের কথা ভাবা যেতে পারে। ফিতেটি ভাঁজ করলে এর চেহারা পাল্টায়, তবে পাকের সংখ্যার বদল ঘটে না। আলোর ক্ষেত্রে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে টপোলজি বলে।
সাধারণ পদ্ধতিতে আলোর নকশার বিস্তারিত ছবি তুলে তা বিশ্লেষণ করতে হয়। নতুন এই ব্যবস্থায় আলো কয়েকটি বিশেষ স্তরের মধ্যে দিয়ে পাঠানো হয়। পরিশেষে আলো কোথায় গিয়ে পৌঁছচ্ছে তা দেখে ওই যন্ত্র প্রয়োজনীয় তথ্য সনাক্ত করে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় এই যে মাত্র ১৫টি নমুনা সহযোগে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর ওই পরীক্ষা ব্যবস্থা একই গোত্রের ৮১ ধরনের আলোর কাঠামো সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এমন নকশাও এর অন্তর্গত যা আগে দেখানো হয়নি।
পরীক্ষায় কৃত্রিমভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করার পরও এধরনের ব্যবস্থা কাজ চালিয়ে গিয়েছে। গবেষকরা আরও মনে করছেন যে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে দ্রুতগতির অপটিক্যাল যোগাযোগ এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আপাতত এটি পরীক্ষাগারে মেলা সাফল্য। বাস্তবে ব্যাপক হারে ব্যবহারের আগে এ সম্পর্কে আরও পরীক্ষা চালানো দরকার। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার কমিউনিকেশনস পত্রিকায়।











