SciTech

চাঁদের অন্ধকার পিঠে জ্বলল ৫টি রহস্যময় আলো, কিসের আলো জানতে পারলেন বিজ্ঞানীরা

চাঁদের এক পিঠ সদা অন্ধকার। সেই অন্ধকারে ৫টি আলোর ঝলক দেখতে পেলেন বিজ্ঞানীরা। এই আলোর উৎস কি তাও অনুসন্ধান করে ফেললেন তাঁরা।

চাঁদের যে অংশ পৃথিবী থেকে চোখে দেখা যায়না, সেখানেই আচমকা জ্বলে উঠল আলো। একবার নয়, পরপর ৫টি আলো জ্বলেছে। তবে সেই আলো অত্যন্ত ক্ষীণ। মহাকাশযান থেকে এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হন মহাকাশচারীরা। চাঁদের অন্ধকার অংশে এমন ধরনের আলোর আবির্ভাব হল কোত্থেকে, উঠছে এই প্রশ্ন।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নাসার আর্টেমিস ২ অভিযানে চাঁদের দূরবর্তী অংশ পর্যবেক্ষণ করছিলেন ৪ মহাকাশচারী। তাঁদের মহাকাশযান ওরিয়ন তখন চাঁদ থেকে প্রায় ৪৬ হাজার মাইল দূরে। সেসময় সূর্যগ্রহণের কারণে চাঁদের বিস্তীর্ণ অংশ অন্ধকারে ঢাকা পড়েছিল।

ঠিক তখনই মহাকাশচারীদের চোখে পড়ে ৫টি অতি ক্ষীণ আলোর ঝলক। মহাকাশচারীরা সেই আলোর অবস্থান নথিবদ্ধ করেন। মহাকাশযানের প্রতিফলিত আলো অথবা মহাজাগতিক রশ্মির কারণে এমন হচ্ছে কিনা প্রথমে মনে এই প্রশ্ন উদিত হয়।

নাসার বিজ্ঞানীরা এরপর তথ্য বিশ্লেষণ করে জানান, চাঁদের মাটিতে ছোট ছোট মহাজাগতিক পাথর আছড়ে পড়ার দরুন ওই আলোর ঝলকের সৃষ্টি হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, পাথর খণ্ডগুলির আকার ছিল মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার। ঘণ্টায় কয়েক হাজার মাইল গতিতে চাঁদের পিঠে আঘাত করায় মুহুর্তের জন্য তীব্র আলোর ঝলক দেখা দিয়েছিল।

চাঁদে পৃথিবীর মতো ঘন বায়ুমণ্ডল নেই। ফলে মহাকাশ থেকে ছুটে আসা ক্ষুদ্রাকার পাথর খণ্ডগুলি বাধাহীনভাবে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত নাসার বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে এই বিরল পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিশদ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের অভিমত, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের বসতি তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কারণ ক্ষুদ্রাকৃতি পাথর খণ্ডগুলির এধরনের আঘাত চন্দ্রঘাঁটির নিরাপত্তার ক্ষেত্র কতদূর পর্যন্ত বিপজ্জনক তাও নতুন করে চিন্তাভাবনা করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে।

Show Full Article