World

পাওয়া গেল হাজার বছরের প্রাচীন রাজপ্রাসাদ লাগোয়া রহস্যময় পাথরের বাড়ির সিঁড়ি

হাজার বছরের পুরনো এক রাজপ্রাসাদের গায়ে একটি সিঁড়ি। যা দিয়ে কোথায় নামা যেত তা নিয়ে সন্দিহান গবেষকেরা। পাওয়া গেছে একটি বাড়িও।

মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল ১ হাজার বছরের পুরনো রাজকীয় ইতিহাস। খননকার্য চালাতে গিয়ে এবার প্রত্নতাত্ত্বিকেরা খুঁজে পেলেন এমন একটি পাথরের বাড়ি যার অস্তিত্ব সম্পর্কে এতদিন কিছুই জানা ছিলনা। আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে ওই বাড়ির নিচে রয়েছে ভূগর্ভস্থ ঘর। সেখানে নামার পাথরের সিঁড়িগুলি এখনও বেশ ভাল অবস্থায় আছে।

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঞ্চলের হেলফটা প্রত্নস্থলে এই বাড়ির হদিশ মিলেছে। যা দৈর্ঘ্যে প্রায় ৯ মিটার, প্রস্থে ৫ মিটার। গবেষকেরা জানিয়েছেন এটি দশম শতাব্দীর নির্মাণ। অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার বছরেরও আগে মানুষের বসতি ছিল এখানে।

কারা থাকতেন এই বাড়িতে? প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ওই ভবনটি পাওয়া গিয়েছে সম্রাট অটো দ্য গ্রেটের প্রাচীন রাজপ্রাসাদের পাশে। গবেষকদের ধারনা এই ভবন রাজদরবারে আসা অভিজাত অতিথিদের থাকার ব্যবস্থার জন্যে নির্মিত হতে পারে। তবে সম্রাট অনুপস্থিত থাকলে দুর্গের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকতেন যে ব্যক্তি, এটি হয়তো উচ্চপদস্থ ওই কর্মকর্তার বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত।

শুধুমাত্র এই বাড়িই নয়, প্রাসাদের পূর্বদিকে পাথরে বাঁধানো একটি উঁচু চত্বরও উদ্ধার হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুমান ওই চত্বরে খোলা আকাশের নিচে রাজকীয় সভা বসত। তবে এসব বর্তমানে সম্ভাবনা মাত্র, নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কিছু নয়।

এর আগেও এখানে রাজপ্রাসাদ, প্রাচীন গির্জা এবং সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এবার খননের পর মিলেছে প্রাচীন মুদ্রা, অলংকার এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের হরেক সামগ্রি।

এই আবিষ্কার থেকে হাজার বছর আগের রাজকীয় ক্ষমতা, সামাজিক বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষকরা নতুন ধারনা লাভ করছেন। তবে কারা এই পাথরের সিঁড়ি দিয়ে মাটির ভূগর্ভস্থ ঘরে নামতেন হেলফটারের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

Show Full Article