পেট্রোল, ডিজেল বাঁচাতে নতুন ভরসা হয়ে ফিরল ঘোড়ায় টানা টাঙা
পশ্চিম এশিয়া জুড়ে অস্থির পরিস্থিতির জেরে দেশের মানুষকে যতটা সম্ভব জ্বালানি বাঁচানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেকথা মাথায় রেখে রাস্তায় ফিরছে টাঙা।
একটা সময় ছিল যখন মানুষের যাতায়াতের বড় ভরসা ছিল ঘোড়ায় টানা টাঙা। শহরের মধ্যে হোক বা গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, টাঙা ছিল বড় ভরসা। ক্রমে সময়ের সঙ্গে নানাধরনের যানবাহন এসে যাওয়ায় মানুষ টাঙায় চড়া কমাতে থাকেন।
অটোরিকশার মত যান টাঙার প্রাচীন ঐতিহ্য মুছে দিতে থাকে। ফলে একটা সময় এমন আসে যখন টাঙা নিত্যদিনের পরিবহণ মাধ্যম নয়, বরং পর্যটকদের বিনোদনের যান হয়ে ওঠে। মানুষ বেড়ানো বা টাঙায় চড়ার আনন্দ উপভোগ করার জন্য টাঙায় চড়তে থাকেন।
ফলে অনেক টাঙা বন্ধ হয়। অনেকে ঘোড়া বেচে অটো কেনার কথাও ভাবতে থাকেন। সেসব ভুলে এখন অনেকেই আবার ঘোড়াকে তৈরি করে, টাঙা গাড়ি ঝেরে মুছে তৈরি।
জম্মু কাশ্মীরের পরিবহণমন্ত্রী নিজেই সেখানে জ্বালানি বাঁচাতে টাঙায় চড়ে যাতায়াত করছেন। অন্যদিকে জম্মুর সীমান্ত শহর আরএস পুরা-তে এখন অনেক টাঙা রাস্তায়। শহরবাসী এখন যাতায়াতের জন্য টাঙা ভাড়া করছেন। ফলে লাভের মুখ দেখছেন টাঙা চালকরা।
ঘোড়াদের দেখভালের জন্য যে খরচ তাঁদের সামলাতে হয়, সে খরচ এখন টাঙা চালিয়ে কিছুটা হলেও উঠছে। তেল বাঁচাতে টাঙা বেছে নেওয়ার পর কেবল আরএস পুরা বলেই নয়, জম্মু কাশ্মীরের অনেক জায়গাতেই টাঙা ফিরছে রাস্তায়।
যা কেবল তেল বাঁচাচ্ছে না, বাঁচাচ্ছে একটি পরম্পরাকে, একটি পুরনো যোগাযোগের উপায়কে, কিছু মানুষের জীবন ও সংসারকে। জম্মু কাশ্মীরের শহরে এখন নজর কাড়ছে টাঙা। আর নিছক বিনোদন নয়, এখন টাঙা মানুষের প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।











