National

এ গ্রামের বাসিন্দারা বিয়ে বা অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণে গেলে খাবার সঙ্গে নিয়ে যান

এদেশে এমন এক গ্রাম আছে যেখানকার বাসিন্দারা বিয়ে বা অন্য কোথাও নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলে খাবার বাড়ি থেকে সঙ্গে নিয়ে যান।

বিয়ে হোক বা অন্য কোনও অনুষ্ঠান, নিমন্ত্রিতদের খাওয়ানোর রীতি পারম্পরিক। বিয়েবাড়ি বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে কাউকে নিমন্ত্রণ করা হলে তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা নিমন্ত্রণ যিনি করছেন তিনিই করেন। সেটাই দেখে সকলে অভ্যস্ত।

ভারতে এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানকার বাসিন্দারা বিয়ে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলে খাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এমনকি পানীয় জলও বাড়ি থেকে নিয়ে যান।

এমন নয় যে যেখানে তাঁদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছে সেখানে অতিথিদের খাওয়ার বন্দোবস্ত থাকেনা। যথেষ্ট বন্দোবস্ত থাকে। তাহলে কেন বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যান? তার কারণ লুকিয়ে আছে এ গ্রামের বহু প্রাচীন এক অভ্যাসে।

গ্রামটি আনুমানিক ৫০০ বছর পুরনো। যেখানে রয়েছে এক প্রাচীন খাদ্যাভ্যাস। এখানকার মানুষ আমিষ খাবার খান না। এমনকি পেঁয়াজ, রসুনও তাঁদের রান্নায় নিষিদ্ধ। ১০০ শতাংশ নিরামিষভোজী এই গ্রামের বাসিন্দারা পরম্পরা ধরে এই প্রাচীন রীতি মেনে চলেন।

এখনও এ গ্রামের মানুষ আমিষ ছুঁয়েও দেখেননা। তাই গ্রামের বাইরে যদি তাঁরা কোনও নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যান সঙ্গে বাড়িতে তৈরি খাবার নিয়ে যান। পানীয় জলও নিয়ে যান। কিন্তু নিমন্ত্রণ যিনি করছেন তিনি তাঁদের জন্য নিরামিষ আয়োজন তো করে রাখতেই পারেন।

সেটা রাখা থাকলেও এ গ্রামের মানুষ সেই খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন। কারণ তাঁরা আশঙ্কা করেন রান্নার সময় যে বাসন ব্যবহার হয় তা কোনও সময় আমিষ রান্নাতেও ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। তাই সেই বাসনপত্রে নিরামিষ রান্না হলেও তা তাঁরা ছুঁয়ে দেখেননা। তার চেয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করলেও সেখানে বসে বাড়ির খাবারই খেতে পছন্দ করেন তাঁরা।

গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বিহারে অবস্থিত। রাস্তায় থাকা পথনির্দেশ অনুযায়ী গ্রামটির নাম চিলম। তবে স্থানীয়রা এ গ্রামকে চিলিম বলেই চেনেন। ভারতের এই নিরামিষভোজী গ্রামের তরুণ প্রজন্মও গ্রামের এই নিরামিষ ভোজনের পরম্পরা মেনে চলেন।

Show Full Article