পাথরের ভিতর নিজে থেকেই তৈরি হল বোনা কাপড়, এমন গঠন আগে কখনও দেখা যায়নি
ঠান্ডা হওয়ার সময় স্ফটিকের ভিতর বৈদ্যুতিক দ্বিমেরু একে অপরের উপর নিচ দিয়ে এমনভাবে জড়িয়ে গেল, যেন অদৃশ্য কোনও তাঁতে বোনা হচ্ছে কাপড়।
কাপড় বুনতে লাগে সুতো। সেই সুতো একবার উপর দিয়ে, একবার নিচ দিয়ে গিয়ে তৈরি করে জটিল বুনন। কিন্তু এমন বুনন যদি তৈরি হয় একটি শক্ত স্ফটিকের ভিতর? কোনও সুতো নেই, তাঁত নেই, এমনকি বাইরে থেকে কেউ সেই গঠন তৈরিও করছেনা। অথচ আণুবীক্ষণিক স্তরে যেন নিজের থেকেই শুরু হয়ে গেল বোনা কাপড় তৈরির কাজ।
বিজ্ঞানীরা এবার ঠিক এমনই এক অদ্ভুত ঘটনা দেখতে পেয়েছেন। একধরনের ফেরোইলেকট্রিক কেলাস ঠান্ডা হওয়ার সময় তার ভিতরের অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক দ্বিমেরু এমনভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে, যা দেখতে অনেকটা ৩ মাত্রিক বোনা কাপড়ের মতো।
গবেষকদের দাবি, কোনও কঠিন স্ফটিকের ভিতর স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া এমন ত্রিমাত্রিক বোনা কাঠামো আগে কখনও দেখা যায়নি। পাথরের ভিতর এ যেন এক অদৃশ্য তাঁত। তবে সাধারণ চোখে স্ফটিকটির দিকে তাকালে এই অদ্ভুত বুনন দেখা যাবেনা। গোটা ঘটনাটিই ঘটছে অতিক্ষুদ্র আকারে।
ফেরোইলেকট্রিক পদার্থের ভিতর অসংখ্য ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক দ্বিমেরু থাকে। সহজ ভাষায় বললে, এগুলিকে অতি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক দিকনির্দেশকের মত ভাবা যেতে পারে। সাধারণ ফেরোইলেকট্রিক কেলাসে বহু দ্বিমেরু একই দিকে সাজিয়ে বিভিন্ন এলাকা তৈরি করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যে বিশেষ স্ফটিক পরীক্ষা করেছেন, সেখানে ঘটনাটি অন্য পথে গিয়েছে।
কেলাস ঠান্ডা হয়ে একটি দশা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় দ্বিমেরুগুলির দল শুধু পাশাপাশি সাজিয়ে যায়নি। এক একটি অংশ অন্যটির উপর দিয়ে, আবার অন্য অংশের নিচ দিয়ে চলে গিয়ে তৈরি করেছে এক জটিল ৩ মাত্রিক নেটওয়ার্ক। ঠিক যেন কাপড়ের বাঁকানো এবং জাল সুতো একে অপরকে অতিক্রম করছে।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই বুনন তৈরির জন্য বিজ্ঞানীদের আলাদা করে আণুবীক্ষণিক স্তরে কিছু সাজিয়ে দিতে হয়নি। স্ফটিক নিজের ভিতরে সেই গঠন তৈরি করেছে।












