Sports

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪-০ ব্যবধানে হারল ভারত, জিতল মন

প্রথমার্ধে রক্ষণভাগে অতিরিক্ত সময় কাটানো ভারত দ্বিতীয়ার্ধে যুবভারতীতে পাল্টা আক্রমণেও যায়। সুযোগও তৈরি করে। এটাই পাওনা হয়ে রইল ভারতীয় ফুটবলের।

হারানোর কিছু ছিলনা। উল্টোদিকে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। যারা বেশ শক্তিশালী দল নিয়েই যুবভারতীর সবুজ গালিচায় খেলতে নেমেছিল। অনামী ভারতকে অবহেলাও করেনি।

ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড়রা নেমেছিলেন মাঠে। এটা যে ফিফা প্রদর্শনী ম্যাচ তা কিন্তু খেলায় বোঝা যায়নি। ব্রাজিল হালকাভাবে নেয়নি ভারতকে। এ খেলায় যদি চাপ থাকে তাহলে তা তো ব্রাজিলের। তাদের তো জিততেই হত।

ভারতের হারানোর কিছু নেই। কেবল দেখিয়ে দেওয়ার একটা সুযোগ ছিল যে ভারতও লড়াই দিতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত সাধারণ এবং দুর্বল গোলকিপিং, অতি রক্ষণাত্মক নীতি এবং বল পায়ে রাখতে না পারা ভারতীয় দলকে প্রথম থেকে বড় অসহায় লেগেছে।

তার মধ্যেও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গতিতে ব্রাজিলের ডিফেন্সের সামনে সেভাবে জায়গা করে উঠতে পারেনি ভারতীয় দল। নিজেদের মধ্যে পাস দেওয়া নেওয়াও করে উঠতে পারছিলেননা ভারতীয় খেলোয়াড়েরা। ২ বা ৩টি শটের পরই বল চলে যাচ্ছিল ব্রাজিলের দখলে।

খেলাটা যেন মাঝমাঠ থেকে ভারতের গোলপোস্ট পর্যন্ত হচ্ছিল। মাঝমাঠের ওপারে যে অর্ধেক মাঠ রয়েছে এবং সেখানে ঢোকার আপ্রাণ লড়াই যে দেওয়া যেতে পারে তা ভারতের তরফে বড় একটা নজর কাড়েনি প্রথমার্ধে।

অন্যদিকে ভিনিসিয়াস জুনিয়ার বারবার ফ্ল্যাঙ্ক দিয়ে ঢুকেছেন বাধাহীনভাবে। কেবল বলটা জালে জড়াতে পারেননি। ভারতের রক্ষণভাগ কিছুটা লড়াই অবশ্যই দিয়েছে। সেজন্য প্রথমার্ধে ২টি গোলেই সীমাবদ্ধ ছিল ব্রাজিল।

ব্রাজিলকে সেখানে বেঁধে দিতে সমর্থ ভারতীয় রক্ষণ। তবে গোলকিপার হিসাবে অধিনায়ক গুরপ্রীত সিং সান্ধু এদিন কার্যত ব্যর্থ। হাতে লেগে বল গোলে জড়ানো, বল বারবার হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া, কেমন যেন গুটিয়ে থাকা ভারতের সর্বশেষ রক্ষণে কোনও ছাপ রাখতে পারেননি সান্ধু।

ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভা এস্তেভাও ২৮ মিনিটে দারুণ গোল করে দেশকে এগিয়ে দেন। ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলটি আসে ৪১ মিনিটে। পেড্রোর জোড়াল শট গুরপ্রীতের হাতে লেগে জালে জড়ায়।

এছাড়া প্রথমার্ধে পেড্রোর একটি হেড নিশ্চিত গোল ছিল। কিন্তু তা বারে লাগায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় ভারতীয় দল। অন্য একটি ক্ষেত্রে গুরপ্রীতের হাত ফস্কে যাওয়া বল প্রায় গোলমুখ থেকে ক্লিয়ার করে বাঁচান আপুইয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের ধরণ বদলায়। অনেক বেশি সদর্থক ফুটবল খেলতে শুরু করে তারা। বিশ্ব তালিকায় ৬ নম্বরে থাকা ব্রাজিলের সঙ্গে ক্রমতালিকায় ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারতের একটা ফারাক তো থাকবেই। কিন্তু একটা সদর্থক ফুটবল ভারত খেলুক সেটা চাইছিলেন দেশের সব ফুটবলপ্রেমী মানুষ। সেটা কিন্তু দেখা যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

অন্যদিকে ব্রাজিল দলের তারকা ফুটবলারদের বেশ কয়েকজনকে এক এক করে তুলে নেওয়া হয়েছিল। যে তালিকায় ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ডগলাস স্যান্টোস, ম্যাথিউজিনহো, মারকুইনোস, পেড্রো, এস্তেভায়ো সহ বেশ কয়েকজন।

Rashifal App

ফলে মাঠে ব্রাজিলের একটা প্রায় নতুন দল খেলছিল। অন্যদিকে ভারতের গোলকিপার ও অধিনায়ক গুরপ্রীত সিং সান্ধু উঠে যান। সেখানে গোলরক্ষায় নামেন প্রভসুখন গিল।

খেলার ৫৮ মিনিটে ব্রাজিলের স্যামুয়েল লিনো আরও একটি গোল করে ব্যবধান বাড়ান। কিন্তু ৬৩ মিনিটে ভারতের উইলিয়ামস যেভাবে ব্রাজিলের গোলমুখে পৌঁছে প্রায় জালে বল জড়াচ্ছিলেন তা দেখে খুশি ভারতবাসী।

শুধু এখানেই শেষ নয়। এর ঠিক ৩ মিনিট পর মনবীরের একটি দারুণ পাস থেকে ব্রাজিলের গোলমুখ প্রায় ফাঁকা পান রায়ান উইলিয়ামস। কিন্তু একটু ভুল শটে বল পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

পাল্টা আক্রমণে কিন্তু ব্রাজিলকেও চাপে ফেলেছিল ভারত। যে খেলাটা প্রথমার্ধে দেখা যায়নি, সেটা কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নজর কেড়েছে। খেলার ৭৩ মিনিটে মনবীর ফাঁকা গোলমুখ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। স্নায়ু শান্ত রেখে খেললে যে গোল মনবীর ঘরোয়া ফুটবলে হয়তো মিস করতেননা, সেটা এই ম্যাচে করলেন।

দ্বিতীয়ত ভারতীয় দলে এগিয়ে যাওয়া খেলোয়াড়কে সঙ্গত দেওয়ার জন্য তেমন কাউকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে বল দখল দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেড়েছিল। খেলার একদম শেষ মুহুর্তে স্যামুয়েল লিনো ফের একটি গোল করে ৪-০ ব্যবধানে ভারতকে পরাস্ত করা নিশ্চিত করেন।

পুরো খেলায় ভারত বেশ কয়েকটি কর্নার পেয়েছে। বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেও এই সুযোগ ব্রাজিলের মত দলের সামনে তৈরি করা তারিফের যোগ্য।

Show Full Article