জলে ডোবা জঙ্গলে অজানা ব্যাঙ, মিলন ডাকেই আসল পরিচয়
অ্যামাজনের জলে ডোবা জঙ্গলে দেখতে পরিচিত ব্যাঙের আসল পরিচয় ফাঁস করল তার মিলন ডাক। সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য দিল নতুন প্রজাতি।
অ্যামাজনের ঘন জঙ্গল মানেই রহস্য। কিন্তু সেই রহস্য আরও গভীর, যখন জঙ্গলের একাংশ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে জলে ডুবে যায়। আর এমনই এক ঋতুভেদে প্লাবিত জঙ্গলে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এক নতুন ব্যাঙের প্রজাতি।
চমকের বিষয়, ব্যাঙটিকে শুধু চোখে দেখে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। কারণ বাইরে থেকে এটিকে দেখতে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মত প্রায় হুবহু একইরকম।
তাহলে বিজ্ঞানীরা বুঝলেন কীভাবে? উত্তর লুকিয়ে ছিল তার ডাকে, ডিএনএ-তে, শরীরের সূক্ষ্ম গঠনে এবং সে যে পরিবেশে বাস করে, সেই বাসস্থানে।
ব্রাজিলসহ একাধিক দেশের গবেষকেরা পশ্চিম অ্যামাজনের জলে ডোবা বনাঞ্চলে পাওয়া ব্যাঙটির নানা বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায়, তার মিলন আহ্বান অন্যদের থেকে আলাদা। জিনগত বিশ্লেষণেও ধরা পড়ে স্পষ্ট পার্থক্য। সঙ্গে দেহের আকার এবং বাসস্থানের অগ্রাধিকার মিলিয়ে গবেষকেরা নিশ্চিত হন যে এটি সত্যিই আলাদা প্রজাতি।
এ ধরনের প্রাণিকে বলা হয় গুপ্ত প্রজাতি। এরা দেখতে প্রায় একই, কিন্তু আসলে জিনগতভাবে ভিন্ন। তাই শুধু রং, আকার বা চেহারা দেখে তাদের সঠিক পরিচয় ধরা যায়না। আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে সেই কারণেই শব্দ, ডিএনএ এবং পরিবেশ, সবকিছুকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই আবিষ্কার আবার মনে করিয়ে দিল, অ্যামাজনে এখনও কত অজানা প্রাণি লুকিয়ে থাকতে পারে। চোখে যা এক, প্রকৃতির ভেতরে তার পরিচয় হতে পারে একেবারেই অন্য।












