আকারে পৃথিবীর অর্ধেক, ভর সূর্যের থেকেও বেশি, শ্বেত বামনকে দেখে চমকিত বিজ্ঞানীরা
এত ছোট জায়গার মধ্যে ১.২২৬টি সূর্যের সমান ভর। অতি ঘন সাদা বামনের ভিতরে কী রয়েছে, জানতে গিয়ে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীর অর্ধেকের মত আকারের একটি গোলক কল্পনা করুন। এবার সেই ছোট্ট জায়গার মধ্যে এমন পরিমাণ পদার্থ ভরে দিন, যার মোট ভর আমাদের সূর্যের থেকেও প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। মহাকাশে সত্যিই এমন একটি বস্তু রয়েছে।
বস্তুটির নাম এসডিএসএস জে০৬০৮−০০৫৯। এটি কোনও সাধারণ নক্ষত্র নয়। একসময় জ্বলতে থাকা নক্ষত্র অন্তিম অবস্থায় পৌঁছে যাওয়ার পরে পড়ে থাকা অত্যন্ত ঘন অবশেষই একটি হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা শ্বেত বামন হিসাবে পরিচিত হয়।
এবার সেই শেষ হয়ে যাওয়া নক্ষত্রকে পরীক্ষা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তার আরও একটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত পেয়েছেন। সাধারণ শ্বেত বামনের ভিতরে যে কার্বন অক্সিজেন স্তর থাকার কথা, তার বদলে এই নক্ষত্রটির গভীরে থাকতে পারে বিরল অক্সিজেন নিয়ন স্তর।
শ্বেত বামন নিজেই মহাবিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত বস্তু। সূর্যের মতো তুলনামূলক কম বা মাঝারি ভরের নক্ষত্র জীবনের শেষ পর্যায়ে বাইরের স্তরগুলি হারিয়ে ফেললে তার অত্যন্ত ঘন কেন্দ্রটি শ্বেত বামন হিসাবে থেকে যায়।
সাধারণ শ্বেত বামনের ভর প্রায় ০.৫ থেকে ০.৭টি সূর্যের সমান হতে পারে। কিন্তু এসডিএসএস জে০৬০৮−০০৫৯ সেই সাধারণ দলের সদস্য নয়। এটি একটি অত্যন্ত বিশাল শ্বেত বামন।
গবেষকেরা এর ভর মেপেছেন প্রায় ১.২২৬টি সূর্যের ভরের সমান। আরও আশ্চর্যের বিষয়, এর ব্যাসার্ধ পৃথিবীর মাত্র ০.৪৯১ গুণ। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক ব্যাসার্ধের জায়গার মধ্যে সূর্যের থেকেও বেশি ভর আটকে রয়েছে।
জীবন সায়াহ্নে পৌঁছে যাওয়া নক্ষত্রটির ভিতরে কী আছে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই ছিল আসল কাজ। কারণ কোনও শ্বেত বামনকে দূরবীক্ষণ যন্ত্রে দেখে তার কেন্দ্র পর্যন্ত দেখা যায় না। যে আলো পাওয়া যায়, তা আসে তার একেবারে বাইরের পাতলা ফটোস্ফিয়ার থেকে। অথচ নক্ষত্রটির মোট ভরের ৯৯ শতাংশেরও বেশি রয়েছে তার গভীর অংশে। ফলে শুধু আলো বিশ্লেষণ করে সরাসরি বলা সম্ভব নয়, তার কেন্দ্র কী দিয়ে তৈরি।
এই সমস্যার সমাধান করতে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন মহাকর্ষের একটি অসাধারণ প্রভাব মহাকর্ষীয় লোহিত সরণ। অত্যন্ত শক্তিশালী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র থেকে আলো বাইরে বেরিয়ে আসার সময় তার কিছু শক্তি হারায়। ফলে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সামান্য বেড়ে যায়। একেই বলা হয় মহাকর্ষীয় লোহিত সরণ।
বস্তু যত বেশি ভারী এবং যত বেশি আঁটসাঁট হবে, এই প্রভাব তত বেশি হতে পারে। কিন্তু এখানেও ছিল সমস্যা। নক্ষত্রটি নিজে মহাকাশে চলাচল করার কারণেও তার বর্ণালী রেখা সরে যেতে পারে।
গবেষণায় হাই-রেজোলিউশন তথ্যের সঙ্গে ফটোমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে নক্ষত্রটির ভর এবং ব্যাসার্ধ নির্ণয় করা হয়। একাধিক সার্ভের তথ্যও এই বিশ্লেষণে কাজে লাগে। আর সেখানেই সামনে আসে বিস্ময়কর সংখ্যাগুলি, ১.২২৬ সূর্য ভর এবং পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক ব্যাসার্ধ।

