মঙ্গলগ্রহে রয়েছে কুমির সেতু, যেখানে পাওয়া গেল সৌরমণ্ডলের প্রাচীনতম পাথর
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য ফের চমক দিল লাল গ্রহ। সেখানে থাকা কুমির সেতুতে দেখা পাওয়া গেল শুধু মঙ্গলগ্রহই নয়, সৌরমণ্ডলের প্রাচীনতম পাথরের।
লাল গ্রহ অবাক করেই চলেছে। আর তা সম্ভব হচ্ছে নাসার পাঠানো রোবট যানগুলির জন্য। পারসিভিয়ারেন্স রোভার যা দীর্ঘদিন লাল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারে ঘুরে বেড়ানোর পর সেই গর্তের গা বেয়ে উঠে এসেছে ওপরে। এখন সে জেজেরোর উপরের জমির নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছ।
সেই পারসিভিয়ারেন্স এবার একটি প্যানোরামিক দৃশ্য উপহার দিয়েছে। তার তোলা ৩৮০টি ছবিকে একত্র করে এই প্যানোরামিক ভিউ তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যাকে এমনভাবে তার স্বাভাবিক রং দিয়ে দেখানো হচ্ছে যা দেখলে মনে হবে মানুষ তার নিজের চোখ দিয়ে দেখছেন।
মানুষ চোখে যেমন দেখেন ঠিক সেভাবে মঙ্গলের এই প্যানোরামিক ভিউ সাজানো হয়েছে। জেজেরো ক্রেটারের তলদেশের মাটি থেকে তার উপরের তল পর্যন্ত একটি অংশ পরিচিত ক্রোকোডাইল ব্রিজ বা কুমির সেতু নামে। এই কুমির সেতু যে অংশকে বলা হচ্ছে সেখানকার পারসিভিয়ারেন্সের পাঠানো তথ্য ও ছবিতে কিছু পাথরের দেখা পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা সেই পাথরগুলি খতিয়ে দেখে এটা জানতে পেরেছেন যে সেগুলি এতটাই পুরনো যে তা কেবল মঙ্গলগ্রহের বলেই নয়, সৌরমণ্ডলের মানে সূর্যের সংসারের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। যা মঙ্গলগ্রহের প্রথমাবস্থা সম্বন্ধে জানাতে পারে।
পৃথিবীর যেমন টেকটনিক প্লেট রয়েছে। যা নড়াচড়াও করে। পৃথিবী তৈরি হওয়ার পর থেকে তা অনেকবার নড়াচড়া করে পৃথিবীর স্থলভাগ এবং জলভাগের চেহারাই বদলে ফেলেছে। তাই পৃথিবীতে প্রাচীনতম পাথর হারিয়ে গিয়েছে।
কিন্তু মঙ্গলগ্রহে টেকটনিক প্লেট সেভাবে নেই। তাই তার বিভিন্ন জায়গায় এমন সব পাথরের দেখা মেলে যা মঙ্গলগ্রহের জন্মলগ্ন থেকে রয়ে গেছে।
তেমন কিছু পাথরের দেখা পাওয়া গেছে কুমির সেতুতে। যা পরীক্ষা করে মঙ্গলের জন্ম থেকে এতদিন কাটানো সময়কাল এবং সেই সময়কালে তার পরিবর্তন সম্বন্ধে বিজ্ঞানীদের জানতে সাহায্য করবে।












