মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় নদী দিয়ে বয়ে চলে ৪০ হাজার বছর পুরনো জল
এ নদী প্রকৃতি তৈরি করেনি। তৈরি করেছে মানুষ। তবে এ নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। যা দিয়ে বয়ে চলে ৪০ হাজার বছর পুরনো জল।
নদী প্রকৃতির এক মহৎ দান। মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশে নদীর ভূমিকা প্রশ্নাতীত। শহর থেকে গ্রাম, সবই নদীর দান। এ পৃথিবীতে এমনও নদী আছে যা প্রকৃতির তৈরি নয়, বরং মানুষের তৈরি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানুষের তৈরি নদীটির নাম দ্যা গ্রেট ম্যান-মেড রিভার। যা তৈরি করা হয়েছিল সাহারা মরুভূমির বুকে। মরু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এ এক অন্যতম আশ্চর্য।
সাহারা মরুভূমি অনেক দেশের অংশ। যার একটি লিবিয়া। সেখানেই তৈরি করা হয়েছিল এই নদী। ১৯৮৪ সালে তৈরি এই নদীটির ব্যাপ্তি ৪ হাজার কিলোমিটার। মরুভূমির বুকে এ নদী কেবল নদী নয়, প্রাণের স্পন্দন।
নদীটিকে প্রধানত ব্যবহার করা হয় সেচের কাজে। কিন্তু সাহারা মরুভূমির ধুধু প্রান্তরের মাঝে এ নদী জলে ভরে কীভাবে? সাহারার তলায় রয়েছে নুবিয়ান স্যান্ডস্টোন অ্যাকুইফার সিস্টেম। যাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিচ্ছন্ন জীবাশ্ম জলের ভান্ডার।
সুদান, চাদ, লিবিয়া এবং মিশর, এই ৪টি দেশের বিভিন্ন অংশের মাটির তলায় এই জল ভান্ডার রয়েছে। ৪০ হাজার বছর পুরনো এই জল মাটির তলায় জমে রয়েছে।
সেই জল পাম্প করে তুলে এই গ্রেট ম্যান-মেড রিভার-এ ছাড়া হয়। যা কেবল সেচের কাজ বলেই নয়, লিবিয়ার ৭০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন জলের উৎসও। লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক মুয়াম্মর গদ্দাফি এটি তৈরি করেন ৮০ দশকের শুরুতে। যা আজও লিবিয়ার বড় ভরসা।




