ধুমধামের সঙ্গে পালিত হল বাংলার প্রাচীন সেন্দ্রা উৎসব, শামিল অন্যান্য রাজ্যের আদিবাসীরা
বাংলায় উৎসবের বৈচিত্র্য নজরকাড়া। তেমনই একটি প্রাচীন উৎসব পালিত হল। যেখানে শুধু এ রাজ্যের নয়, অন্য রাজ্যের আদিবাসীরাও সমান উৎসাহে শামিল হন।
এ উৎসব প্রাচীন। এ উৎসব পারম্পরিক। এ উৎসব পৌরুষ প্রমাণের। এ উৎসব শিকার উৎসব। যা বহুকাল ধরে পরম্পরা মেনে চলে আসছে। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে গড়ধাম এবং সোতানটাডি, এই ২ জায়গায় উৎসবের আয়োজন ছিল দেখার মত।
বাংলার প্রাচীন উৎসবের মানচিত্রে এই উৎসব সেন্দ্রা উৎসব নামে খ্যাত। এটি প্রধানত আদিবাসী উৎসব। আদিবাসীদের শিকার উৎসব। যা প্রতিবছর ধুমধাম করে পালিত হয়।
এখানে প্রতিবছরই উৎসবে শামিল হতে আশপাশের আদিবাসীরা তো বটেই, এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও আদিবাসীরা হাজির হন। আসেন পূর্ব ভারতের নানা জায়গার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। অনেক স্টল বসে। মেলার চেহারা নেয় চারধার। এক মহামিলনের প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে অযোধ্যা পাহাড় লাগোয়া এই জায়গা।
শিকার উৎসব শুনে মনে হতেই পারে এখানে রক্তপাত হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এখানে রক্তপাতহীন সেন্দ্রা বা শিকার উৎসব পালিত হচ্ছে। বন্যপ্রাণি থেকে পরিবেশ রক্ষার মন্ত্র বুকে করে মহা ধুমধামে পালিত হচ্ছে এই উৎসব।
বন্যপ্রাণ ও পরিবেশকে বাঁচানো এই উৎসবের অন্যতম দিক হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর বুদ্ধপূর্ণিমার সময় এই উৎসবের আয়োজন হয়। এবারও আয়োজনে ত্রুটি ছিলনা। ভাটা পড়েনি উৎসাহে।
এই এলাকায় সারাবছর পর্যটকদের ভিড় নজর কাড়ে। তবে এই সেন্দ্রা উৎসবের সময় এখানকার রূপই যায় বদলে। আনন্দে উৎসবে শামিল হন পুরুলিয়ার মানুষজন।












