Festive Mood

বাংলার পয়লা বৈশাখ, অন্যান্য রাজ্যেও কীভাবে পালিত হয় দিনটা, কি তার বিশেষত্ব

বাংলা নববর্ষ। বাংলা ক্যালেন্ডারের শুরু। পয়লা বৈশাখ বাংলায় পালিত হয়। অন্যান্য রাজ্যেও দিনটি পালিত হয় নানা ভাবে নানা কারণে। কোথায় কীভাবে পালিত হয়।

চৈত্রের শেষ দিন চৈত্রসংক্রান্তি বা চড়কসংক্রান্তি হিসাবে পরিচিত। আর তার পরদিন মানেই পয়লা বৈশাখ। চৈত্রসংক্রান্তিতে চড়ক ঘোরা থেকে চড়ক মেলা, চৈত্র অবসানের পুজো সহ নানা আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে দিন কাটে বঙ্গবাসীর। পরদিন বাংলা ক্যালেন্ডারের শুরু।

বাংলা নববর্ষ মানেই সকাল থেকে মন্দিরে মন্দিরে লম্বা লাইন, মাথায় ঝুরি নিয়ে তাতে লক্ষ্মী গণেশের মূর্তি, হালখাতা, পঞ্জিকা নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা। তারপর পুজো। দুপুরে নানা জায়গায় খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। আর বিকেল নামলে বিভিন্ন দোকানে দোকানে মানুষের ঢল নামে। বিক্রিবাটার সঙ্গে চলে মিষ্টিমুখ, নতুন ক্যালেন্ডার হাতে পাওয়া।

বাংলার মতই ত্রিপুরাতেও পয়লা বৈশাখ পালিত হয়। আবার পঞ্জাব ও হরিয়ানায় পালিত হয় বৈশাখী। এটা মূলত ফসল কাটার উৎসব। মাঠ ভরা ফসল ঘরে তোলার এটাই সময়। আর তাকে কেন্দ্র করেই বৈশাখী। এদিন ভাংরা নাচ, খাওয়াদাওয়ার মধ্যে দিয়ে ধুমধাম করে দিনটি পালন করেন পঞ্জাব, হরিয়ানার মানুষ। এটি তাঁদের একটি অন্যতম উৎসব।

বাংলার অদূরে অসমে আবার পালিত হয় বিহু। বিহু হল চাষের মরসুম আরম্ভের উৎসব। বিহু নাচের মধ্যে দিয়ে এই দিনটি পালিত হয়। নানা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অসম মেতে ওঠে বিহুর আনন্দে। যা বোহাগ বিহু বা রঙালি বিহু নামেও পরিচিত। নতুন পোশাক পরে বিহুতে মেতে উঠতে সারাবছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন অসমের মানুষ।

মণিপুরে আবার দিনটি পালিত হয় সাজিবু চেইরাওবা নামে। এখানেও দিনটি নতুন চাষের সময় শুরুকে সামনে রেখে পালিত হয়। এই দিনে আত্মীয় পরিজনের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ রান্না পরিবেশনের রীতি আছে। তার আগে হয় সেই খাবারের পুজো। এই দিনে মণিপুরের বিশেষ খাবার হল সবরকম আনাজ মাখা। ওড়িশায় আবার নববর্ষ পালিত হয় পানা সংক্রান্তি নামে। বিহারে পালিত হয় ছাতু সংক্রান্তি নামে।

দক্ষিণ ভারতেও এই দিনটি পালিত হয় একাধিক রাজ্যে। কেরালায় এদিন পালিত হয় ভিষু নামে। ভিষু কানি তৈরি করা হয় ভোরবেলা। চাল, ফল, আনাজ, সোনা এবং একটি আয়না দিয়ে ভিষু কানি তৈরি হয়। তারপর ভোরে প্রথমবার ওই আয়নায় নিজেকে দেখেন মানুষজন। এটা বিশ্বাস যে এই ভিষু কানি তৈরি করে তার আয়নায় মুখ দেখলে সারাবছর ভাল কাটে।

এই ভিষু কানি মালয়ালম নববর্ষও। এদিন আতসবাজিও পোড়ানো হয় কেরালায়। এদিন অনেক পরিবারেই উপোস করা হয়। খাওয়া হয় বিশেষ খাবার। কেরালা লাগোয়া তামিলনাড়ুতে আবার দিনটি অন্যভাবে পালিত হয়। পাথান্দু নামে দিনটি পালিত হয়। অনেক বাড়ি আম পাতা দিয়ে সাজানো হয়।

তামিলনাড়ুতেও এদিন ফুল, ফল, মুদ্রা ও আয়না দিয়ে কান্নি সাজানো হয়। এদিন বিশেষ খাবার হল কাঁচা আম, তেঁতুল, নিম এবং গুড় দিয়ে তৈরি আম পাচাদি। সারাবছরটা টক, মিষ্টি, তেতো কেমন যাবে তা সামনে রেখেই এই বিশেষ খাবার। এদিনটা তামিলনাড়ুতেও নববর্ষের সূচনা। এই উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি বাড়ি রঙ্গোলিতে সেজে ওঠে। আর উৎসব মানেই তো খাওয়াদাওয়া।

Show Full Article
nilkantho.in app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *