পাথরের গায়ে প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণে প্রথম এমন এক পার্ক তৈরি হচ্ছে ভারতে
প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মানুষ তার সমকালীন ছাপ রেখে যেত। যা এখন দুষ্প্রাপ্য সব নিদর্শন। পাথরের গায়ে এমন নিদর্শনকে রক্ষা করতে একদম নতুন ধরনের পার্ক তৈরি হচ্ছে ভারতে।
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ লিখতে পড়তে জানত না। কিন্তু একেবারেই কি কিছু জানত না? তা বোধহয় নয়। তাই তারা তাদের সময়কে পাথরের গায়ে তুলে ধরত। একটা সময় ছিল যখন গুহায় থাকত মানুষ। তাই গুহার দেওয়ালকেই ফাঁকা পাতা বা ক্যানভাসের মত ব্যবহার করত তারা।
সেখানে তাদের দৈনন্দিন জীবনের কথা ছবি এঁকে রেখে দিত। আবার শিলালিপির মত করে ছবি আঁকত বড় বড় পাথরের ওপর। এমন কিছু দিয়ে পাথরের গায়ে দাগ করা হত যা পাথরে আঁচড় তৈরি করত। আর সেই আঁচড়ে তৈরি হত নানা ছবি।
এসব ছবি আসলে ওই সময়ে সেখানকার মানুষদের দৈনন্দিন জীবন। যেখানে সেই মানুষরা তাদের জীবন চিত্র তুলে ধরত। জীবন যাপন তুলে ধরত। এমন সব পাথরের গায়ে চিত্র বিশ্বের নানা প্রান্তে পাওয়া যায়। যা সেই সময়টাকে গবেষকদের চিনতে সাহায্য করেছে।
ভারতেও এমন বড় বড় শিলাখণ্ড পাওয়া যায় যার ওপর এমন আঁচড় কেটে ছবি দেখতে পাওয়া যায়। সেইসব প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনগুলিকে সংরক্ষিত রাখতে এবার লাদাখে তৈরি হচ্ছে একটি পেট্রোগ্লিফ কনজারভেশন পার্ক। ভারতে এমন পার্ক এই প্রথম। এমন ভাবনাও এই প্রথম।
লাদাখের নানা প্রান্তে এমন প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তরখণ্ড পাওয়া যায়, যার ওপর এমন নানা চিত্রের মাধ্যমে তাদের সময়কে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল সে সময়কার মানুষ। পাথরে খোদাইয়ের মত করে এসব ছবি এবং প্রতীক বছরের পর বছর ধরে রোদ, জল, বৃষ্টি, বরফেও নষ্ট হয়নি।
সেগুলিকে এবার পার্ক তৈরি করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নানা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এখানে এগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে সেই প্রাগৈতিহাসিক সময়কে রক্ষা করা তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে এই নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার কাজও অনেক সহজ হয়ে যাবে এই পার্ক তৈরি হলে। লাদাখের লেহ-র সিন্ধু ঘাট এলাকায় এই পার্কটি তৈরি হলে তা ভারতের এক অনন্য দ্রষ্টব্য স্থান হবে।












