কাজে লাগছে নতুন প্রযুক্তি, জলাভাবেও মাছ চাষ করে মোটা মুনাফা ঘরে তুলছেন কৃষকরা
যেখানে জলের সমস্যা রয়েছে সেখানে মাছ চাষের কথা ভাবা না গেলেও এখন সেখানেই একটি নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর মাছের ফলন হচ্ছে। খুশি মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।
যেখানে জল অনেক সেখানে মাছ চাষটা খুব স্বাভাবিক হতেই পারে। কিন্তু যেখানে জলের অভাব একটা দীর্ঘদিনের সমস্যা সেখানে প্রচুর মাছ চাষ হচ্ছে শুনলে একটু অবাক লাগতেই পারে। কিন্তু সেখানেই প্রচুর মাছ চাষ হচ্ছে। সামান্য জলেই মাছ চাষ হচ্ছে। আর প্রচুর মাছও হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডের পালামৌ অঞ্চলে মাছ চাষ এখন একটা দারুণ লাভজনক ব্যবসা। পালামৌ স্বাস্থ্যকর স্থান হিসাবেও পরিচিত। কিন্তু এখানে জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এখানে যেটুকু মাছ চাষ হত জলের অভাব এবং জলের দূষণের কারণে জ্যান্ত মাছ প্রায় বিক্রিই করে উঠতে পারতেন না কৃষকরা। সেই মাছই বিক্রি হত ১০০ টাকা কেজিতে।
এখন সে ছবি বদলেছে। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা-র আওতায় বায়োফ্লক নামে একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পালামৌ-এর মাছ চাষিরা এখন প্রচুর মাছ পাচ্ছেন। জ্যান্ত মাছ বিক্রি করছেন। ২০০ টাকা কেজি তো দাম পেয়েই যাচ্ছেন। ফলে তাঁদের জীবন বদলেছে। মুনাফার অঙ্ক মোটা হয়েছে। হাসি চওড়া হয়েছে।
বায়োফ্লক এমন এক প্রযুক্তি যেখানে ব্যাকটেরিয়া, অণুজীব এবং শৈবালের সমন্বয়ে তৈরি একটি পাতলা আস্তরণ জলকে পরিশুদ্ধ করতে থাকে। জলে থাকা নাইট্রোজেন অনেকটাই শুষে নিয়ে জলের মান বাড়ায়। যা মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয়। এই বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ অনেক সময় বড় বড় ঘেরা জায়গায় করা হয়ে থাকে। সেখানে জলের মান ভাল হওয়ায় প্রচুর মাছ হয়।
পালামৌতে এখন বায়োফ্লক প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছেন মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত অনেক কৃষক। আগে পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশের মত জায়গা থেকে মাছের খাবার কিনতে হত। ফলে যানবাহনের জন্য খরচ বাড়ত। এখন মাছের খাবার স্থানীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মাছের ফলনের খরচ আরও কমেছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা












