National

ঝোপঝাড় কুঞ্জবনে হাত নয়, প্রাচীন পরম্পরা মেনে রক্ষিত হয় মরুরাজ্যের ওরান জমি

এ এক প্রাচীন পরম্পরা। যুগের পর যুগ ধরে ওরান এলাকার ঝোপঝাড়েও কেউ হাত দিতে পারেননা। এটাই মরুরাজ্যের রীতি। যে ওরান এলাকা বাড়াতে উদ্যোগী সরকার।

চারধারে বালি। শুষ্ক প্রান্তর। সবুজের দেখা বড় একটা পাওয়া যায়না এমন অনেক জায়গা রয়েছে মরুরাজ্য রাজস্থানে। সেখানে তাই সবুজের কদর প্রশ্নাতীত। এই রাজ্যেই রয়েছে ওরান এলাকা।

স্থানীয়রা এই এলাকাগুলিকে ওরান এলাকা বলে আলাদা করেন। আর তা আজকে নয়, বহু যুগ ধরে চলে আসছে। এখানকার প্রাচীন রীতি হল ওরান এলাকার ঝোপঝাড়ে কেউ হাত দিতে পারবেননা। নষ্ট করতে পারবেননা। কুঠারাঘাত তো একেবারেই নয়। সবুজ বাঁচাতে ওরান এলাকা নিয়ে যথেষ্ট স্পর্শকাতর সেখানকার মানুষজন।

সংস্কৃত শব্দ অরণ্য থেকেই ওরান শব্দের আগমন। যা রাজস্থানে বেশ পরিচিত শব্দ। ওরান এলাকার ঝোপঝাড় কুঞ্জবন গাছপালাকে পবিত্র বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ওরান এলাকায় সবুজকে ছোঁয়া মানা।

ওরানকে রক্ষা করাটা স্থানীয়দের কাছে জরুরি। আর তা পরম্পরা ধরে চলে আসছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন বালি আর শুকনো জমির প্রসারে লাগাম দেয় এই ওরান। সবুজকে বাঁচিয়ে রাখে। বাঁচিয়ে রাখে রাজস্থানের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যকে।

জয়সলমীরে সেই ওরান এলাকা বাড়াতে উদ্যোগী সে রাজ্যের সরকার। ৩ হাজার ৬৬৬ হেক্টর জমি আলাদা করা হয়েছে ওরান হিসাবে। যা জয়সলমীরকে সজীব ও সবুজ রাখতে পারে। জয়সলমীরের মোকলা গ্রামে ওরান সম্প্রসারণের কাজ শুরুও হয়েছে।

এছাড়াও কয়েকটি তহসিলে ওরান বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে রাজস্থান সরকার। যা রাজস্থানের মরু বিস্তার রুখে দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article
nilkantho.in app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *