বিমানে গরম মশলা নিয়ে উঠতে গিয়ে ৫৭ দিন শ্রীঘরে কাটাতে হল ব্যবসায়ীকে
বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের ব্যাগপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাতেই পাওয়া গিয়েছিল গরম মশলা আর আমচুর। যার জন্য ৫৭ দিন গারদের পিছনে কাটাতে হল এক ব্যবসায়ীকে।
তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ভোপাল থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন। বিমানে ওঠার সময় তাঁর লাগেজ পরীক্ষা করা হয়। সেটাই নিয়ম। সেই সময় তাঁর ব্যাগ থেকে পাওয়া যায় গরম মশলা এবং আমচুরের প্যাকেট।
পরীক্ষা করার সময় বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং যন্ত্র জানায় ব্যাগে নিষিদ্ধ পদার্থ রয়েছে। সেই নিষিদ্ধ পদার্থ নিয়ে বিমানে সফর করতে যাওয়ার চেষ্টার অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ব্যবসায়ীকে গারদের পিছনেও যেতে হয়। ৫৭ দিন কারাবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এদিকে বাজেয়াপ্ত গুঁড়োর ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় রিপোর্ট বার হলে দেখা যায় সেগুলোতে কোনও নিষিদ্ধ পদার্থ নেই। নিছক মশলার গুঁড়ো। ফলে মামলা বন্ধ হয়ে যায়।
এটা জানার পর ওই ব্যক্তি তাঁর গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত সব দিক খতিয়ে দেখে স্পষ্ট জানায়, ওই ব্যক্তির গ্রেফতারি সম্পূর্ণ ভুল ছিল। এমনকি ওই ব্যক্তির মৌলিক অধিকারও এই গ্রেফতারিতে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে জানায় আদালত।
এজন্য রাজ্যসরকারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। ওই ব্যক্তিকে ৩ মাসের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দিতে হবে রাজ্যসরকারকে।
সেই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে ফরেনসিক পরীক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরামর্শও আদালতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যাতে কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি এভাবে গ্রেফতারির শিকার না হন সেদিকেও নজর রাখতে রাজ্যসরকারকে নির্দেশে দিয়েছে আদালত।











