বিশ্বের একমাত্র রেল রুট যেখানে যাত্রীদের জন্য সব সিটের পাশে থাকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা
ট্রেনের কামরা। আচমকা দেখলে হাসপাতাল বলে মনে হতেই পারে। বিশ্বের এটাই একমাত্র রেল রুট যেখানে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য থাকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা।
ট্রেনের কামরা কেমন হয় তা সকলের জানা। বিশ্বের অনেক দেশে আবার আধুনিক বিলাসবহুল কামরাও দেখা যায়। কিন্তু ট্রেনের কামরাকে আচমকা দেখে হাসপাতাল বলে কারও মনে হয় কি? উত্তর, হয়না। ব্যতিক্রম কেবল একটি রুটে।
যেখানে ট্রেনে উঠলে হঠাৎ করে দেখে যে কারও মনে হতে পারে ট্রেনের কামরা নয়, হাসপাতাল। যেখানে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকে। যাত্রীর আসন লাগোয়া দেওয়ালের গায়ে লাগানো থাকে অক্সিজেন নেওয়ার ইউনিট। থাকে অক্সিজেন পাইপও। কিন্তু ট্রেনে অক্সিজেন কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তার রুটে।
চিনের কিউইনঘাই থেকে তিব্বতের লাসা, এটাই এই ট্রেনের রুট। ১ হাজার ৯৫৬ কিলোমিটার এই রেল রুটে চলার পথে ট্রেনটি একসময় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছে যায়। এখানে বাতাসেই অক্সিজেন অনেকটা কম। যার প্রভাব ট্রেনে থাকা মানুষজনের ওপরও পড়ে।
এমনিতেই ট্রেনটি ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় অনেকটা পথ যাত্রা করে। একসময় তাংগুলা পাসের কাছে সেটি ১৬ হাজার ফুটের ওপর পৌঁছে যায়। এই উচ্চতায় যাত্রীদের অনেকেরই অক্সিজেনের সমস্যা হয়।
সেজন্য ট্রেনের মধ্যেই এমন হাসপাতালের মত ব্যবস্থা করা থাকে। যাতে দরকার পড়লেই যাত্রীরা নাকে অক্সিজেন নল প্রবেশ করিয়ে অক্সিজেন নিতে পারেন। তবে ট্রেনে এছাড়াও অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকে।
কামরায় থাকা শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সঙ্গে জুড়ে কামরায় অক্সিজেন ছাড়া হতে থাকে সারাক্ষণ। যাতে যাত্রীদের অক্সিজেনের সমস্যা না হয়। তাও অনেকের অক্সিজেনের সমস্যা হয় উচ্চতার জন্য। তাই তাঁরা তখন অনায়াসে সিটের পাশে থাকা অক্সিজেন নল দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারেন।
এটাই বিশ্বের একমাত্র ট্রেন যার প্রতি কামরার প্রতিটি সিটের পাশে অক্সিজেন ইউনিটের ব্যবস্থা করা থাকে। তবে এই রুটটি হিমালয়ের এমন উচ্চতা দিয়ে যাত্রা করে যে সেখানকার প্রকৃতি যাত্রীদের মুগ্ধ করে।














