এখানে বাসে বা গাড়িতে নয়, নদীতে সাঁতার কেটে অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন মানুষজন
নারী পুরুষ নির্বিশেষে অফিস থেকে ফেরার জন্য বেছে নেন নদীপথ। তবে সেটা স্টিমার বা নৌকায় নয়। সাঁতার কেটে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।
এভাবেও যে অফিস থেকে বাড়ি ফেরা যায় সেটা বোধহয় না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত। ধরা যাক কারও অফিস গঙ্গার কাছে। তিনি প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার সময় গঙ্গায় নেমে পড়েন। তারপর সাঁতার কেটে বাড়ির কাছাকাছি ঘাটে উঠে পড়েন। পোশাক বদল করেন। তারপর বাড়ি ফিরে যান। আর এভাবেই প্রতিদিন বাড়ি ফেরেন তিনি।
এমনটা বোধহয় কেউ শোনেননি। কিন্তু এমনও ২টি শহর রয়েছে যেখানে এটা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। এখানে অফিস বা কর্মস্থলে কাজ সেরে নারী পুরুষ নির্বিশেষে নদীর ধারে চলে আসেন। তারপর পোশাক বদলে সাঁতারের পোশাক পরে নেন।
পুরুষদের পরনে থাকে জাঙ্গিয়া। মহিলাদের পরনে টু পিস। সঙ্গে থাকে একটি ব্যাগ। বিশেষ ধরনের ব্যাগ। যাতে জল ঢুকবে না। সেই ব্যাগে পোশাক, তোয়ালে থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ সবই ঢুকিয়ে নেন। তারপর সেটি নিয়ে লাফ দেন নদীর জলে।
স্রোত ভালই। ফলে জলে পড়ার পর স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়া। অনেকে আবার ব্রিজ থেকে লাফ দেন জলে। তারপর মহানন্দে ভেসে যেতে থাকেন নিজের বাড়ির দিকে।
বাড়ির কাছে যে ঘাট রয়েছে সেটা কাছে এলে তাঁরা জল থেকে ঘাটে উঠে পড়েন। সব ঘাটেই রয়েছে নারী পুরুষের জন্য পোশাক বদলের ব্যবস্থা। সেখানে পোশাক বদল করে বাড়ি।
সুইৎজারল্যান্ডের বার্ন এবং বাসেল নামে ২ শহরের গা দিয়ে বয়ে গেছে রাইন ও আরা নদী। বার্নের গা দিয়ে আরা এবং বাসেলের গা ঘেঁষে রাইন নদী বয়ে গেছে। সুইৎজারল্যান্ডে গ্রীষ্মকাল এলে বিকেলের দিকে আরা নদীর জলে বহু মানুষকে এভাবে সাঁতার কেটে যেতে দেখা যায়।
একইভাবে বাসেল শহরে রাইনের জলে মানুষের ভিড় লেগে যায়। সকলেই ভেসে চলেছেন। ঠান্ডা জলে কারও বাড়ির কাছে পৌঁছতে লাগে ১০ মিনিট তো কারও ২০ মিনিট তো কারও আর একটু বেশি।
বহু মানুষই বাড়ি ফেরার জন্য এই নদীপথে সাঁতার কাটাকে বেছে নেন। যা তাঁদের সারাদিনের ক্লান্তি যেমন মুছে দেয়, তেমনই শরীরটাকে সতেজও করে দেয়। আবার এভাবে আনন্দে বাড়িও ফেরা যায়।














