World

বসবাস অযোগ্য জলহীন দ্বীপে ফেলে আসা গরুরা টিকে গেল শতাধিক বছর, বেড়ে হল ২ হাজার

এ দ্বীপে পানীয় জল নেই। সেখানেই কয়েকটিমাত্র গরু ফেলে রেখে চলে আসেন এক ব্যক্তি। সেই গরুরা কিন্তু শেষ হয়নি। বরং বহুগুণে বেড়েছে।

খাবার, পান করার মত জল আর বসবাসযোগ্য আবহাওয়া, এগুলো পেলে যে কোনও প্রাণি সেখানে বসবাস শুরু করতে পারে। বংশবৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু যে দ্বীপে এগুলোই নেই সেখানে বাঁচার উপায় কি?

উপায় নেই বুঝেই এক কৃষক একটি দ্বীপে বসবাস শুরু করেও কয়েক মাস পর ফিরে আসেন। কারণ অনেক চেষ্টা করেও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ওই দ্বীপে তিনি কেন কোনও বড় প্রাণির পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব।

পানীয় জল নেই। খাবার নেই। তার সঙ্গে প্রবল ঝোড়ো সামুদ্রিক হাওয়া প্রবল বেগে নিরন্তর বইতে থাকে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়। শীতের দিনে বৃষ্টি বাড়ে।

সেখানে থাকবেন বলে ১৮৭১ সালে ওই কৃষক দ্বীপটিতে কয়েকটি গরু এবং মেষ নিয়ে পৌঁছেছিলেন। তারপর ফিরেও আসেন। তবে গরু, মেষ নিয়ে আর ফেরেননি।

এরপর বহু বছর কেটে যায়। ১৯৫০ সাল নাগাদ ভারত মহাসাগরের ওপর মাদাগাস্কার থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত এই আমস্টারডাম দ্বীপে হাজির হন কয়েকজন গবেষক। তাঁরা সেখানে পৌঁছে অবাক হয়ে যান সেখানে ঘুরে বেড়ানো অনেক গরু দেখে।

অবাক হওয়ার কারণও ছিল। যে কয়েকটি গরু সেখানে ফেলে রেখে চলে আসেন ওই কৃষক, সে গরুদের জীবন দ্রুত শেষ হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তারা কেবল বেঁচেই নেই, বংশবৃদ্ধিও করেছে।

কিন্তু যে দ্বীপে পানীয় জলটুকু নেই, সেখানে কীভাবে এরা টিকে গেল? দেখা যায় গরুগুলি শিশির পান করে, আর মাঝেমধ্যে বৃষ্টির ফলে যে জল জমে তা পান করে জীবন কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

ওই দ্বীপে অন্য কোনও প্রাণি না থাকায় তারা দ্বীপের যাবতীয় ঘাস, পাতা খেয়ে জীবন চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে দ্বীপটিতে সারাক্ষণ বইতে থাকা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গেও নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে গরুরা। ৮০-র দশকে দেখা যায় তারা সংখ্যায় ২ হাজার ছুঁয়ে ফেলেছে। যা এক আশ্চর্য জীবন সংগ্রামের কাহিনি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Show Full Article