পাহাড়ে হারানো তরুণের খোঁজ মিলল ৩৭ ঘণ্টা পর, ছড়িয়ে পড়ল এক মিষ্টি উদ্ধার কাহিনি
বন্ধুদের সঙ্গে একটি পাহাড়ে চড়েছিলেন তিনি। তারপর বিশ্রাম নিতে গিয়ে বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর ৩৭ ঘণ্টা তাঁর কোনও খোঁজ ছিলনা।
কলেজ পড়ুয়া কয়েকজন ছাত্র মিলে স্থির করেন তাঁরা একটি পাহাড়ে চড়বেন। স্থানীয় হলেও পাহাড়টি ঘন জঙ্গলে ঘেরা। ওঠাটা যে খুব কঠিন তা নয়। তবে নামা ওঠার পথ বড়ই জঙ্গলাকীর্ণ। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝেই এই পাহাড় ঘিরে ফেলে কুয়াশা। যা এই পাহাড়ে চড়তে আসা অনেক মানুষকেই পথ চিনতে দেয়না।
সেদিক থেকে বেশ দুর্গম এ পাহাড়। ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরের কাছে তাম দাও পাহাড়ে চড়ার উৎসাহ অবশ্য তাতে কম হয়না। দাই নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুয়েন তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে এই পাহাড়ে চড়তে শুরু করেন।
পাহাড়ের মাথায় পৌঁছেও যান তাঁরা। এবার নামার পালা। এই সময় ১৯ বছরের নুয়েন একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটা পাথরের ওপর বসে পড়েন। বন্ধুরা অবশ্য এগিয়ে যান। তাঁর ধারনা ছিল একটু বসে নিয়েই তিনি বন্ধুদের পিছনে পিছনে গিয়ে তাঁদের ধরে ফেলবেন।
সেইমত একটু বসে নিয়ে তিনি এগোতে থাকেন পাহাড়ি পথ ধরে। কিন্তু বন্ধুদের আর দেখা পাননি। অনেক খুঁজেও বন্ধুরা কোন পথে গেল তার খোঁজ নুয়েন পাননি। বন্ধুরাও তাঁর দেখা পাননি।
এদিকে পাহাড়ে তখন সন্ধে নামছে। নামার রাস্তা কিছুতেই খুঁজে না পেয়ে অগত্যা নুয়েন একটি পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর ধারে বসে পড়েন। রাত নামে জঙ্গলে। তাঁর ফোনটাও কাজ করছিল না। ফলে কারও সঙ্গে যোগাযোগের উপায়ও নেই। নুয়েন অপেক্ষায় থাকেন। যদি কেউ তাঁকে উদ্ধার করতে হাজির হয়।
এটা ছিল গত ১৯ এপ্রিলের ঘটনা। সেদিন রাতে ওই পাহাড়ি নদীর জল পান করে আর ব্যাগে থাকা কোরিয়ার একটি সংস্থার চোকোপাই খেয়ে নুয়েন কাটিয়ে দেন। পরদিন বন্ধুরা তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রশাসনকে জানান। দ্রুত শুরু হয় তাঁর খোঁজ।
কিন্তু সেদিন তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওই পাহাড়ি নদীর ধারে নুয়েনও সারাদিন অপেক্ষায় কাটান। বেঁচে থাকার জন্য ওই নদীর জল আর ব্যাগে থাকা কয়েকটা চোকোপাই ছিল ভরসা।
সেদিন রাতেও ওই পাহাড়েই কাটানোর পর সকাল হলে তাঁকে অবশেষে খুঁজে পান উদ্ধারকারীরা। ততক্ষণে ৩৭ ঘণ্টা একাকী ওই জঙ্গলে কেটে গেছে তাঁর। তবে তাঁর শরীর ঠিকই ছিল।
এই ঘটনা ভিয়েতনামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নুয়েনের এই উদ্ধারকে মিষ্টি উদ্ধার বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কারণ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছিল কিছু মিষ্টি চোকোপাই।











