Kolkata

দেশের আরও একটি রাজধানী কলকাতা হোক, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে স্মরণ করে শ্যামবাজার থেকে রেড রোড পর্যন্ত শোভাযাত্রার শেষে এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে কলকাতাকেও ভারতের একটি রাজধানী করার দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কলকাতা : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিবস আগেও পালিত হয়েছে। প্রতি বছরই হয়। তবে এমন রাজনৈতিক উন্মাদনা নজরে পড়েনি। এবার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তা পড়ল। আর সেই সুর এদিন শোভাযাত্রা শেষে রানি রাসমণি রোডের মঞ্চেও শোনা গেল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নেতাজি স্মরণের পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন। এদিন মঞ্চ থেকে কলকাতাকেও দেশের আরও একটি রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি। শুধু কলকাতা বলেই নয়, দক্ষিণ ভারত, উত্তর ভারতেও এমন করে এক একটি রাজধানী গঠনের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সমাজসংস্কারে এ রাজ্যের অবদানের কথা মাথায় রেখে কলকাতাকে একটি রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নেতাজি স্মরণে এদিন বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফের নেতাজি জন্মজয়ন্তীতে জাতীয় ছুটির দাবিতে সোচ্চার হন। তিনি বলেন নেতাজির জন্মজয়ন্তীকে জাতীয় ছুটি হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। সেইসঙ্গে যোজনা কমিশন বা প্ল্যানিং কমিশন ফের ফিরিয়ে আনারও দাবি করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, নেতাজির পরিকল্পনামতই তৈরি হয় প্ল্যানিং কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্ল্যানিং কমিশন তুলে দিয়ে সেখানে নীতি আয়োগ গঠন করেছে। প্ল্যানিং কমিশনে রাজ্যের তরফে কথা বলার জায়গা ছিল। কিন্তু নীতি আয়োগে নেই। নেতাজিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্ল্যানিং কমিশনকে ফেরত আনার দাবি তোলেন মঞ্চ থেকে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, নানা ক্ষেত্রে কেন্দ্র খরচ করছে। পার্লামেন্ট ভবন নতুন করে তৈরি হচ্ছে, তবু নেতাজির নামে বা আজাদ হিন্দ ফৌজের নামে কোনও স্মারক স্তম্ভ তৈরি করা হচ্ছেনা। কেউ না করুক তিনি একটি আজাদ হিন্দ স্মারক স্তম্ভ তৈরি করে দেখিয়ে দেবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত রাজারহাটে এই স্মারক স্তম্ভ তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে।

এদিন সকালে নেতাজি ভবনে প্রতি বছরের মত অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে আচমকাই হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুক্ষণ থাকেন। ছোট বক্তব্য রাখেন। তারপর বেরিয়ে যান।

রানি রাসমণি রোডের মঞ্চ থেকে এদিন রাজ্যের যুব সমাজকে নেতাজির লেখা বইগুলি পড়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষত তরুণের স্বপ্ন বইটি অবশ্যই পড়তে বলেন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button